রাত ৪:০৯, শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সিলেট / হারিয়ে যাচ্ছে সিলেটের শিল-পাটার কারিগর
হারিয়ে যাচ্ছে সিলেটের শিল-পাটার কারিগর
মে ২, ২০১৭

এম এ.সাবলু হৃদয়, সিলেট : আধুনিক যুগ শিল্পায়নের যুগ। শিল্পায়নের এই যুগে পাথর কেটে শিলপাটা তৈরি কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল শিলপাটা ছাড়া চুলায় হাঁড়িও উঠত না। ব্যাপক চাহিদা ছিল শিলপাটার। প্রতিটি পরিবারের কাছে একটি পরিচিত নাম ছিল শিলপাটা।

চিরায়ত গ্রামবাংলার শিলপাটা নিয়ে রয়েছে নানা মজার কাহিনী। এখনো গ্রাম-বাংলার অনেক পরিবার রয়েছে যারা শিলপাটায় বাটা মসলা ছাড়া রান্না খেতে পছন্দ করে না। শিলপাটা দিয়ে শুধু মসলা বাটা নয়, একসময় মেহেদী বাটা থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবারের ভর্তা বাটা ছিল ঘরের গৃহিণীদের কাছে প্রতিদিনের রুটিন মাফিক কাজ।
কিন্তু এখন বদলে গেছে যুগ পাড়া-মহল্ল¬ার প্রতিটি মুদির দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া নানা জাতের প্যাকেটজাত মসলা আর মসলা ভাঙার মেশিনত আছেই। বাণিজ্যিকভাবে মসলা ভাঙার মেশিন চালু হওয়ায় শিলপাটায় মসলা বাটার গুরুত্ব একেবারেই কমে গেছে।

শিলপাটা কারিগরদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এখানে দীর্ঘদিন ধরে শিলপাটা তৈরি করে প্রায় ৫০/৬০টি পরিবার জীবন জীবিকা নির্ভর করে আসছে। বর্তমানে শিলপাটার কদর আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ বাব দাদার পেশা ধরে রেখেছেন। এখনো কিছুটা চাহিদা আছে বলে তারা জানান।

শিলপাটা কারিগর মাহমুদ আলী জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পাথরের সাথে যুদ্ধ করে চালিয়ে যাচ্ছেন তার জীবন-জীবিকা। তার নিত্যসঙ্গী হিসেবে রয়েছে হাতুড়ি আর ছেনি (ধারালো লৌহখন্ড)।

মাহমুদ আলী জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে উপজেলা সদর থেকে আনুমানিক ১২ কি.মি. উত্তরে লোভা পাথর কোয়ারিতে কাজ করতাম। ওই সময় বড় পাথর ভাঙতে গিয়ে চারকোনা টুকরো বের হতো। অনেকেই টুকরোগুলো কিনে নিয়ে শিল-পাটা তৈরি করতেন। দেখে দেখে লেগে যাই শিল-পাটা তৈরির কাজে।
বর্তমানে আমার এখানে ২-৩ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে, দিনে ৫-৬টি শিল-পাটা তৈরী করতে পারে একজন শ্রমিক। একটি শিল-পাটা ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

বগুড়া থেকে জাফলং বেড়াতে আসা পর্যটক শারমিন জাহান বলেন, শিলপাটার কোন বিকল্প নেই। বাজারের মসলার মধ্যে ভেজাল থাকে। বাড়িতে শিলপাটার বাটা মসলা দিয়ে রান্নার তরকারির স্বাদই আলাদা। তাই একটি শিলপাটা কিনলাম।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top