সন্ধ্যা ৭:৩৯, শনিবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য / সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁতের বিভিন্ন কসমেটিক চিকিৎসা
সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁতের বিভিন্ন কসমেটিক চিকিৎসা
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭

,ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন)দাঁত মাড়ি ও দাঁতের বিন্যাসজনিত সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কসমেটিক চিকিৎসা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের অবস্থান, আকার-আকৃতি ও রঙের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুন্দর হাসি তৈরিতে সাহায্য করে। মাড়ি ও মুখের শল্যচিকিৎসাও অবদান রাখছে সুন্দর হাসি ও মুখমন্ডলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে। দাঁতের বিভিন্ন কসমেটিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হলো।


ব্লিচিং: দাঁতের কসমেটিক চিকিৎসায় দাঁত সাদা করা বা দাঁতের ব্লিচিং পদ্ধতি সচরাচর ব্যবহার করা হয়। বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে এ চিকিৎসা করা হয়। যদিও ডেন্টাল ক্লিনিকে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তবুও ঘরে বসে দাঁত সাদা করতে বিশেষ ধরনের ‘ব্লিচিং কিট’ দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। বিশেষ ব্লিচিং উপাদান ব্যবহার করে লেজাররশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমেও দাঁত সাদা করা যায়।


রিশেপিং: এ পদ্ধতিতে দাঁতের বাইরের অ্যানামেল স্বল্পমাত্রায় কেটে দাঁতের আকার আকৃতি বদল করা যায়। এ পদ্ধতির নাম অ্যামিলোপ্লাস্টি বা ওডোন্টপ্লাস্টি। এক্ষেত্রে ডেন্টিননামক দাঁতের সংবেদনশীল আবরণ উন্মুক্ত হয়ে গিয়ে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। বন্ডিং: এ পদ্ধতিতে দাঁতের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কম্পোজিটের মাধ্যমে দাঁতের সামঞ্জস্যপূর্ণ আকৃতি তৈরি করা হয় এবং বিশেষ আলোকরশ্মি প্রয়োগ করে তা শক্ত করা হয়। মুখের সামনের দিকের ভাঙা বা বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক আকার ও রঙ ফিরিয়ে আনার জন্য এ পদ্ধতি খুব কার্যকর।


ভিনির: এক্ষেত্রে পোরসিলিনের পাতলা ল্যামিনেশন দাঁতের ওপর বন্ডের মাধ্যমে বসিয়ে দেওয়া হয়। দাঁত সাদা করার চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায় নি। এমন বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে এ পদ্ধতি কার্যকর। সামনের দাঁতের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা থাকলে তা ভিনির মাধ্যমে বন্ধ করে ফেলা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিনির করার আগে দাঁতের অ্যানামেলের কিছু অংশ চেঁছে ফেলতে হয় ভালো ফল পাওয়ার জন্য।ক্রাউন: ভাঙা দাঁত বা দাঁতের অস্বাভাবিক আকারের কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে দাঁতে ধাতব মুকুট বা ক্রাউন পরিয়ে দেওয়া হয়। বাইরের দিকে থাকে পোরসিলিনের আবরণ।

 তা ব্যক্তিবিশেষের দাঁতের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। ডেন্টাল ব্রিজ: মুখে এক বা একাধিক দাঁত না থাকলে তা প্রতিস্থাপন করা যায় ব্রিজ করার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে হারানো দাঁতে পোরসিলিনের দাঁত ঝুলন্ত অবস্থায় বসিয়ে দেওয়া হয় ভার বহন করতে সক্ষম এমন হারানো দাঁতের উভয়পাশের দুটি দাঁতে।
ব্রেস: যারা আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু দাঁতের কারণে সৌন্দর্যহানিতে ভুগছেন, তাদের দাঁত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দাঁতে ব্রেস পরানো হয়। অর্থোডন্টিস্টরা এ চিকিৎসা করে থাকেন।ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: মুখের হারানো দাঁত প্রতিস্থাপনে এটি আধুনিক একটি পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে চোয়ালের হাড়ে টাইটেনিয়াম উপাদানের স্ক্রু বসিয়ে দেওয়া হয়। এ স্ক্রুর ওপর ভর করে বসিয়ে দেওয়া হয় কৃত্রিম দাঁতের মুকুট, ক্ষেত্রবিশেষে বাঁধাই করা দাঁত।


চোয়ালের শল্যচিকিৎসা: যাদের নিচের চোয়াল সামনের দিকে বাড়ানো, তাদের মুখমন্ডলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রয়েছে ‘অর্থোগ্নেথিক সার্জারি’ নামক শল্যচিকিৎসা।
গাম লিফটিং: হাসার সময় কারো কারো দাঁতের মাড়ি সহজেই দেখা যায়। এ সমস্যার নাম ‘গামি স্মাইল। এক্ষেত্রে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে মাড়ি উপরের দিকে তুলে দেওয়া হয় বা মাড়িতে সৌন্দর্যরেখা তৈরি করা হয়। হাসার সময় মাড়ির পরিবর্তে দাঁতগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ফিরে আসে হাসির সৌন্দর্য।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top