রাত ২:৪৮, সোমবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মতৈক্য জরুরি: রাষ্ট্রপতি
* জেএসডির ৩ প্রস্তাব
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মতৈক্য জরুরি: রাষ্ট্রপতি
জানুয়ারি ৭, ২০১৭

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্য প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্েযর মধ্যে  শনিবার বঙ্গভবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মধ্যে এদিন আ স ম আবদুর রব নেতৃত্বাধীন দলটির সঙ্গে আলোচনা করেন আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, জেএসডির প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যও জরুরি। সংলাপে জেএসডির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ইসি গঠনে তিন দফা প্রস্তাব রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং প্রস্তাবনা দেওয়ার জন্য জেএসডিকে ধন্যবাদ জানান।

জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আলোচনার অবসানে ইসি গঠনে স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে জেএসডি। জেএসডি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংলাপ এবং অবাধ রাজনৈতিক অধিকার ও জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য।

বৈঠক শেষে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে চলমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। পাঁচ মিনিটে বাকশাল পাস হয়েছিলো এ আইন করতে বেশি সময় লাগবে না। সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রধান হলেও আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ক্ষেত্রে সরকারই নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। এ জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে এখানে একটি দল নিরপেক্ষ, নির্বাচিত ও জবাবদিহিতামূলক সরকারের বিধান করা অপরিহার্য। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ গোফরান, সহ-সভাপতি দবিরউদ্দিন জোয়ার্দার, অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান মাষ্টার, সহ-সভাপতি তানিয়া ফেরদৌসী, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম ফারুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আনসার উদ্দিন।

৩ প্রস্তাব : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে জেএসডির পক্ষ থেকে ৩ দফা প্রস্তাব দেয়া হয়। যার প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে : পার্লামেন্টের ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন করে সেখান থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিধান করা; ‘উচ্চকক্ষ’সহ পার্লামেন্ট হবে ‘দ্বি-কক্ষ’ বিশিষ্ট। অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়ে পার্লামেন্টের ‘নি¤œকক্ষ’ হবে ৩০০ সদস্য বিশিষ্ট। ২০০ সদস্য বিশিষ্ট ‘উচ্চকক্ষে’ থাকবেন ‘অদলীয়’ভাবে নির্বাচিত বিভিন্ন শ্রম-কর্ম-পেশার প্রতিনিধি, ‘নি¤œকক্ষে’র নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক প্রতিনিধি, প্রবাসীদের মধ্য থেকে অন্তত ১০ জন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীতি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রাদেশিক পরিষদ (গঠনের পর) প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি। দ্বিতীয় প্রস্তাবে রয়েছে : গণতন্ত্রের জন্য-এর ভিতকে সম্প্রসারিত, সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা এবং তৃতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীনের কুনমিং, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে ‘উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কানেক্টিভিটি ও পরিবহন অর্থনীতি জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top