বিকাল ৩:০৮, শনিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / সিলেটে রাজন হত্যা কামরুলসহ ৪ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল
সিলেটে রাজন হত্যা কামরুলসহ ৪ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল
এপ্রিল ১১, ২০১৭

সিলেটের আলোচিত সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামসহ চার আসামিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। এ মামলার পাঁচ আসামিকে দেওয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ডের রায় বহাল রাখা হলেও একজনের যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীদেরই এক সহযোগী নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে সারা দেশে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভে¤॥^র এ মামলার রায়ে চারজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবন এবং পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে যাবজ্জীবন সাজার রায় পাওয়া নূর মিয়াই ঘটনার দিন রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করেন এবং পরে ছড়িয়ে দেন ইন্টারনেটে। হাই কোর্ট তার সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ডের রায় দিয়েছে। বাকি আসামিদের সবার সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

যার যেমন সাজা
কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদ ফাঁসি বহাল। নূর মিয়া    যাবজ্জীবন ৬ মাস কারাদন্ড। কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদ সাত বছর করে কারাদন্ড বহাল। দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলী    এক বছর করে কারাদন্ড বহাল। আসামিদের মধ্যে জাকির হোসেন পাভেল এবং কামরুলের ভাই শামীম আহমদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ফিরোজ মিয়া, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিন নামের তিন আসামিকে সিলেটের আদালত খালাস দিয়েছিল। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রাজনকে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিত আলম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। পরে মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম ও আলী হায়দার এবং ময়না মিয়া চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের মধ্যে পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান মূল আসামি কামরুল। পরে ভিডিও দেখে প্রবাসীদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। রাজন হত্যার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ওই বছর ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভে¤॥^র এ মামলার রায় দেন। চার আসামির মৃত্যুদন্ডের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাই কোর্ট রায়ের জন্য ১১ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল ইসলাম ও নিজামুল হক নিজাম। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, মো. শাহরিয়ার ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top