দুপুর ২:৫৪, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / সিরাজগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন দিশাহারা কয়েকশ’ পরিবার
সিরাজগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন দিশাহারা কয়েকশ’ পরিবার
এপ্রিল ২০, ২০১৭

হেলাল আহমেদ, সিরাজগঞ্জ : ভারতের আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত তিনদিন যাবৎ সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে প্রবল বর্ষণে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এরই মধ্যে শুভগাছা, রতনকান্দি এবং ছোনগাছা ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের আরও দুইশতাধিক বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাসহ শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক  বাড়িঘর। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামের টুটুলের মোড়ে ব্রহ্মপুত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল ধরায় এলাকাবাসীর মধ্যে আবার নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভয়াবহ ভাঙনরোধে বালির বস্তা নিক্ষেপের কাজ শুরু করেছে।

চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই যমুনা নদী তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের চরবাহুকা, বাহুকা, টুটলের মোড়, ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচ ঠাকুরী, ভাটপিয়ারী এবং কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ও চরশুভগাছাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার পর এলাকা বিলীন হতে থাকলেও তা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন বর্ষা মৌসুম এগিয়ে আসার সাথে সাথে উজান থেকে পানির ঢল নেমে আসছে। একই সাথে প্রবল বর্ষণ শুরু হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

রতনকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খোকন ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের ফলে এলাকার শত শত মানুষ আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয়েছে। বার বার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে আরও বহু বাড়িঘর, ফসলি জমিসহ অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙনকবলিত বাহুকা এলাকার কৃষক হযরত আলী, শাহার ভানু, আব্দুল কাদের, শুভগাছা টুটুলের মোড়ের রুস্তোম আলী, রেজাউল করিম, আব্দুল মজিদসহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জানান, শুভগাছা বাহুকা থেকে পাঁচ ঠাকুরী পর্যন্ত নদী তীরবর্তী অঞ্চলে প্রতিদিনই বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। এভাবে ভাঙনে গত দুই মাসের মধ্যে অসংখ্য বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। চর বাহুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরো গ্রাম এখন শুধুই স্মৃতি। এছাড়া একটি মসজিদ ও চোরমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বাহুকা, শুভগাছাসহ আশপাশের গ্রামগুলো এখন রয়েছে চরম হুমকির মুখে।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় শিমলা-খুদবান্দি বাঁধটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে অর্ধশত গ্রাম পাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার বলেন, বাহুকা থেকে খুদবান্দি ও কাজিপুরের মেঘাই এলাকা মিলে ৭ কিলোমিটার নদী তীররক্ষা বাঁধের ৬৮৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ইতিমধ্যে প্রি-একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জরুরিভিত্তিতে ভাঙনরোধের জন্য বালির বস্তা নিক্ষেপের কাজ আজ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top