বিকাল ৪:৫৯, রবিবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ সাহিত্য / সামিয়ার পাখি জোবায়ের রাজু
সামিয়ার পাখি জোবায়ের রাজু
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬


সামিয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে কাল রাতের ঝড় বৃষ্টিতে তাদের সারা বাড়ি অনেকটা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উঠোনে ঝরা পাতা আর গাছের মরা ডাল পড়ে কি বিশ্রি অবস্থা। সামিয়ার বাবা মা দুজনেই বেশ মনোযোগ দিয়ে সেগুলি পরিষ্কার করছে। বিছানা ছেড়ে উঠে সামিয়ার মনে হল তার বাবা মাকে কাজের সহায়তা করা দরকার।
সদ্য ঘুম থেকে উঠা সামিয়া খালি পায়ে উঠোনে এসে দাঁড়ালো। ওমা! কাল রাতে ঝড়ে তাদের ঘরের চারপাশের বড় বড় গাছগুলির ডালপালা ভেঙ্গে একাকার। কখন এতো ঝড় হল! সামিয়া বুঝতেই পারেনি।

সামিয়াকে উঠে আসতে দেখে তার মা বলল ‘টেবিলে নাস্তা রেডি করা আছে, খেয়ে পড়তে বসো।’ সামিয়া কিছু বলছে না। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে সারা বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার মত শুকনো পাতাগুলি দেখছে।

পুকুর ঘাটে এসে সামিয়া চমকে গেল। হায় হায়! ঘাটের পাশের বিশাল জামগাছটি উপড়ে পড়ে আছে। সামিয়া রোজ দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে এসে এই জাম গাছটিতে চড়ে তারপর পুকুরে ঝাঁপ দেয়। আজ গাছটি ভেঙ্গে গেছে দেখে সামিয়ার মনটা খারাপ হয়ে গেল।

মন খারাপ করে সামিয়া পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখে ঝোঁপের পাশে একটি শালিক ছানা কিচ কিচ করছে। আহারে, নিশ্চয় শালিক ছানাটির বাসাটা ঝড়ে ভেঙ্গে এখানে পড়ে আছে।
যতœ করে সামিয়া শালিক ছানাটি তুলে ঘরে নিয়ে এলো। সামিয়ার দাদুর খাটের তলায় যে লোহার পুরণো খাঁচাটি আছে, সামিয়া শালিক ছানাটি সে খাঁচায় ভরে রাখলো। তার বেশ ভালো লাগছে। শালিক ছানাটি ডাকাডাকি বন্ধ করে শান্ত হয়ে খাঁচার এক কোণে বসে রইল।
এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। খাঁচার শালিক ছানাটি সামিয়ার সেবা যতœ পেয়ে বড় হতে লাগল।
 
কোন কোন শালিকটা যখন তখন জোরে ডাকাডাকি করে সারা বাড়ি গরম করে তোলে। তখন সামিয়ার বাবা বলে Ñ‘তুমি পাখিটি ছেড়ে দাও। বনের পাখি বনে থাকবে, এটাই নিয়ম।’
বাবার এমন কথা শুনতে সামিয়ার ভালো লাগে না। সে পাখিটাকে অনেক ভালোবাসে, তাই খাঁচা থেকে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবতেই পারে না।
একদিন সকাল বেলা পাখিটি জোরে জোরে ডাকতে লাগল। সামিয়া আর তার বাবা দৌড়ে এলো খাঁচার কাছে। পাকা কলা দেয়া হল পাখিটাকে। অন্যদিন হলে পাখিটা ঠুকরে ঠুকরে কলা খেতো। আজ খাচ্ছে না। বরং ডাকাডাকি আরো বাড়ছে। সামিয়ার বাবা বললÑ‘তুমি পাখিটা ছেড়ে দাও মা। দেখছো না ও বের হতে কেমন করছে।’ বাবার কথা শোনে সামিয়া চুপ হয়ে গেল। পাখিটার এমন করুণ টিৎকার সামিয়ার মন খারাপ করে দিল।

সেদিন দুপুরেই সামিয়া সিদ্ধান্ত নিল সে পাখিটা খাঁচা থেকে ছেড়ে দিবে। যে ভাবা, সে কাজ। প্রথমে সামিয়া খাঁচাটি নিয়ে এলো বারান্দায়। তারপর খাঁচার মুখ খুলতেই পাখিটি ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল সামিয়াদের পেয়ারা গাছের ডালে। সেখানে কিছুক্ষণ পায়চারি করে পাখিটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

পেছন থেকে সামিয়ার বাবা এসে বললÑ‘পাখিটি ছেড়ে দিয়ে খুব ভালো কাজ করেছো।’ সামিয়া বাবার দিকে তাকিয়ে বললÑ‘তুমি ঠিকই বলেছো আব্বু, বনের পাখি বনেই থাকবে। তাদেরকে খাঁচায় বন্দি করে কষ্ট দেয়ার দরকার নেই।’ মুখ হাসি হাসি করে সামিয়ার বাবা সমিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top