বিকাল ৪:৪৮, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত বিএনপি
সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত বিএনপি
মে ২০, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপকল্প ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার পর এবার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা এই দলটি। যদিও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে ইশতেহারের আগেই নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদুল ফিতরের পরপরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই রূপরেখা ঘোষণা করবেন। আর ভিশন-২০৩০’র আলোকেই তৈরি হচ্ছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, যেটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ঘোষণা করা হবে। এদিকে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্পে কোনোকিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন পড়লে সেটাও করবে বিএনপি। আর সেটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগেই করা হবে। এই রূপকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি দলিল-সনদ হিসেবে রাখতে চায় দলটি। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


জানতে চাইলে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন ঈদের পরপরই এই সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। কী ধরণের সহায়ক সরকার বিএনপি প্রত্যাশা করে, রূপরেখায় সেটা স্পষ্টভাবে বলা হবে। পরে এ নিয়ে কী আলোচনা-সমালোচনা হয়, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর নির্বাচনের এক বা দুই মাস আগে ঘোষণা করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার, যেটার কাজও এগিয়ে চলছে।

বিএনপির ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে- বিএনপি এটা নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, উন্মুক্ত রাখতে চায়। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেকোনো পয়েন্টে পরিবর্তনের প্রয়োজনে যদি ঐকমত্য হয়, তাহলে নিশ্চয় সেই পরিবর্তন আনা হবে। সব সতর্কতার পরেও ভুল হতেই পারে। সুতরাং রূপকল্পে জরুরি সংশোধনের প্রয়োজন হলে নিঃসন্দেহে তা করা হবে।


বিএনপি ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চায়, সেটার ওপর ভিত্তি  করে ৩৭টি ইস্যু ও ২৫৬টি দফা নিয়ে গত ১০ মে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে। এই রূপকল্পের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও জনগণের কাছে তুলে ধরতে কর্মিসভা, সেমিনার, সুধী সমাবেশসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে ইতোমধ্যে দিনব্যাপী শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারও হয়েছে। সেখানে দলের চেয়ারপারসনসহ শিক্ষাবিদরা বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানের সুপারিশমালা যুক্ত হবে ইশতেহারে। এছাড়া স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়েও সেমিনার করবে বিএনপি। সবগুলোতেই উপস্থিত থাকবেন বিএনপি প্রধান। সেখানে উঠে আসা প্রস্তাবগুলোও নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত হবে। এদিকে চিঠিসহ রূপকল্পের একটি কপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দ্রুতই পাঠানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় কারও কোনো যুক্তিসঙ্গত-গ্রহণযোগ্য মতামত থাকলে তা সংগ্রহ করে ভিশন ও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিশন-২০৩০’র আলোকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি। ভিশনে প্রতিটি ইস্যুর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলেও ইশতেহারে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে। নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি ভিশনের কী কী বাস্তবায়ন করবে, তা থাকবে ইশতেহারে। ইশতেহারের নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন দল সমর্থিত কয়েকজন বুদ্ধিজীবী।

আরো জানা গেছে, ইশতেহারে অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চমক থাকবে। কম সময়ের মধ্যে বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর বিশেষ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। রাজনীতিতেও ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন আসবে। ইশতেহারের জন্য একটা ভালো সেøাগানও খুঁজছে দলটি। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বায়নের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদের আকৃষ্ট করতে নানামুখী উদ্যোগ থাকছে ইশতেহারে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিকে। বিভক্তি ও বিভাজনের রাজনীতির অবসান, বিরোধী দলকে সত্যিকার অর্থেই বিকল্প সরকারের মর্যাদা দেওয়াসহ ইতিবাচক সব অঙ্গিকার থাকছে এ নির্বাচনী ইশতেহারে।


এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল, যারা সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনের জন্য ইশতেহার অবশ্যই দেওয়া হবে। ইশতেহারে ভিশন-২০৩০ এর নানাদিক গুরুত্ব পাবে। তবে বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশন-২০৩০ উপস্থাপনের সময়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমেই বলেছেন- এটাতে আপনারা মতামত দেবেন। আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটাকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান ফখরুল।


বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে শক্তিশালী-স্বাধীন নির্বাচন কমিশনও কখনো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে না। তাই অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের প্রয়োজন; যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ-অভিলাষ থাকবে না, নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও তাদের নিজস্ব কোনো স্বার্থ থাকবে না।

জানা গেছে, সহায়ক সরকারের রূপরেখায় বেশকিছু বিকল্প প্রস্তাব থাকতে পারে। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন সময়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা গুরুত্ব পাবে। তবে জামায়াতকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনার কারণে নিবন্ধন বাতিল হওয়া ২০ দলীয় জোটের শরিক এই দলটিকে বাইরে রেখেই কৌশলে দেয়া হতে পারে ওই প্রস্তাব। এছাড়া ক্ষমতা হ্রাস করা সাপেক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকতে পারে প্রস্তাবে। সেক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ না করার শর্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ওই সরকারের প্রধান থাকতে পারবেন। এছাড়া রূপরেখায় সংবিধান সংশোধন করে নতুন কাঠামোয় নির্বাচন দেয়ার প্রস্তাবও আসতে পারে। বিএনপি মনে করছে, সংবিধানে এ ‘সহায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। কারণ, তারাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তাছাড়া বর্তমান সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই আইন পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুধু সিদ্ধান্তের ব্যাপার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top