দুপুর ১২:১২, শুক্রবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে পুষ্টি
শিশু মৃত্যু হার হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে পুষ্টি
জানুয়ারি ১২, ২০১৭

কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ফলে দেশব্যাপী শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
গত বছরের শেষে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী- পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি হাজারে ৩৮ জন, যেখানে ১৯৯০ সালে ছিল ১৪৪ জন। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়না হিসেবে বিবেচিত স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর (ডিজিএইসএস) প্রতি বছরের শেষে এ বুলেটিন প্রকাশ করে।


শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শিশু মৃত্যুহার নয়, জাতিসংঘ ঘোষিত ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রায় সকল সূচকেই বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।


২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ১৮৯টি সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে ২০১৫ সালকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, টেকসই পরিবেশ এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নিয়ে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেÑ যা এমডিজি নামে পরিচিত। এমডিজি নির্ধারিত চার নম্বর লক্ষ্যটি ছিল শিশুমৃত্যু হার হ্রাস যা বাংলাদেশ সময়ের অনেক আগেই অর্জন করেছে।

 এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এ্যান্ড হেল্থ সার্ভে-২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৪৮ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের আগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী অগ্রগতি হয়ে ৩৮ জনে নেমেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারকরণ, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, মা ও শিশুর পুষ্টির মান উন্নয়ন, উন্নত প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ শিশুমৃত্যু  হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার রক্ষা সংস্থা ১৯৯৮ সাল থেকে দেশের জেলাগুলোতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। যা শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপুষ্টিজনিত সমস্যা বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী একটি সমস্যা। যা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর জন্য এক-তৃতীয়াংশ দায়ী।


বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস), ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য তদারকি ব্যবস্থা, পরিবার পরিকল্পনা, সারাদেশে কমিউনিটির ভিত্তিতে পুষ্টির  সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। পাশাপাশি এনএনএস’র অধীনে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেল্থ নিউট্রিশন (আইপিএইসএন) এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর পুষ্টিসেবাকে শক্তিশালী করার জন্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে শিশুস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অপুষ্টিজনিত সমস্যা অন্যতম একটি হলেও কয়েক বছরের সার্বিক প্রচেষ্টায় পুষ্টি সেবার মান যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছে।  ২০১৫ সালের স্বাস্থ্যৃ বুলেটিনের তথ্যানুসারে, দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ খর্বকায়, ৩৩ শতাংশ ওজনহীন এবং ১৪ শতাংশ বিভিন্ন নাশকতার শিকার।


এমডিজি অর্জনের পর শিশুমৃত্যু হার আরো কমানোর লক্ষ্যে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নবজাত এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু হ্রাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।


শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের সাফল্যের পেছনে সরকার পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি কাজ করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে এবং আরো জোরদার করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, সরকার সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে নবজাত শিশুদের একটি নতুন পদ্ধতি চালু করেছেÑ যা শিশুদের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি অবস্থা নিরীক্ষণ করতে সাহায্য করবে। যার মাধ্যমে শিশু স্বাস্থ্যের তথ্য আপডেট পাওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top