সকাল ১১:০৮, বৃহস্পতিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ Top News / শাহজাদপুরের তাঁত শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন
শাহজাদপুরের তাঁত শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন
মে ১৯, ২০১৭

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সামনে পবিত্র রমজান মাস হলেও অন্যান্য বারের তুলনায় এবার শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে তাঁতবস্ত্রের বেচাকেনা একেবারেই নেই। এছাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত, ঋণের কিস্তির ঘানি টানাসহ বহুবিধ কারণে হাজার হাজার তাঁতশ্রমিকেরা মানবেতর দিনযাপন করছে।

ইতিমধ্যেই পুঁজি সংকটের কারণে এলাকার শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাঁতী ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহমুদ এ কথা জানান।


ফলে তাঁতীদের অবস্থা করুণ হবার পাশাপাশি শ্রমিক পরিবার পরিজনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, দুর্গতিতে নিমজ্জিত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থা রোধে তাঁতবস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি ও তাঁত মলিক-শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতীব জরুরি। শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র শাহজাদপুরেই রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার তাঁত শ্রমিক। এদের মধ্যে স্থানীয় শ্রমিকের সংখ্যা ৪০ হাজার। আর উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকার ২০ হাজার শ্রমিক এখানে নিযুক্ত রয়েছেন। ওইসব শ্রমিকের গড় আয় প্রায় ২০০ টাকা।


চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে ওই সীমিত আয় দিয়ে বর্তমানে তাদের জীবন চালানো খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে। শাহজাদপুরে অনেক শ্রমিক রয়েছেন যাদের একার আয়ের ওপর সংসার পুরোপুরি নির্ভরশীল। এমন একজন উপার্জনক্ষম শ্রমিক পরিবার বর্তমানে কিভাবে দিন কাটছে তা বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাসের উপায় নেই। এ বিশাল জনগোষ্ঠী শ্রমিকের সিংহভাগই ‘দিন আনি দিন খাই’-এ নীতিতে চলছে।


আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ওইসব শ্রমিকরা পুঁজি ভেঙে, সম্পদ বিক্রি করে, ধারদেনা করে বিশেষ করে স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে কোনভাবে দিন অতিবাহিত করছে। ফলে তাদের ধারদেনা ও ঋণের মাশুল গুণতে হচ্ছে প্রতি ক্ষণে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূলের আকাশচুম্বি ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই শ্রমিকদের বেহাল অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 তার পরেও ‘মরার ওপার খাড়ার ঘা’-এর মতো ঋণের কিস্তি টানতে টানতে ঋণ শোধের পরিবর্তে নতুন করে তারা বিভিন্ন এনজিওর ঋণের অথৈ জলে আটকে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে আর হা-হুঁতাশ করছে। এদিকে, তাঁতীদের তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের দামও আনুপাতিক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, বর্ধিত মূল্য দিতে নারাজ ব্যাপারী পাইকারেরা। ফলে কাপড়ের হাটে বেচাকেনা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। যেটুকু বিক্রি হচ্ছে তাতেও আশানুরূপ মুনাফা করতে না পেরে ও শ্রমিকদের মজুরি দিতে না পেরে তাঁতীরা তাঁত বন্ধ করে দিচ্ছে।


হাটে তাঁতবস্ত্র বিক্রি হলে তাঁতীরা কারখানার শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মজুরি প্রদান করে থাকেন। কিন্তু বিক্রির অবস্থা নাজুক হলে শ্রমিক বিল আটকে যায়। এতে শ্রমিকদের খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিনযাপন করতে হয়, নতুবা অথৈ ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে জীবন চালাতে হয়। এতে ওই শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন জীবন ক্রমশ বিষিয়ে ও তেঁতো হয়ে উঠছে। এ অবস্থা হতে তাদের, তাঁত মালিক ও তাঁতশিল্পকে রক্ষায় দেশীয় তাঁতবস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি ও তাঁতী এবং শ্রমিকদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতীব জরুরি বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top