দুপুর ১:০২, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ খুলনা / শামুক বেঁচে শখ মেটায় ওরা
শামুক বেঁচে শখ মেটায় ওরা
নভেম্বর ২৩, ২০১৬

রাস্তার ধারে অনেকক্ষণ ধরেই অধীর আগ্রহে ছোট ছোট বস্তা নিয়ে বসেছিল ওরা। বস্তা ভর্তি শামুক। একজনকে আসতে দেখেই হইহই করে উঠে রনি, বিকাশরা। তাদের উল্লাসের কারণ শামুক কেনার মহাজনকে দেখে। এই শামুক বিক্রির টাকা দিয়েই এসব শিশুরা তাদের শখ মেটায়। পাশাপাশি পরিবারকেও সাহায্য করে।

শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ও লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিশুরা শামুক বিক্রি করে এভাবেই তাদের জীবন-জীবিকা চালাচ্ছে। শিশুরা শামুক বিক্রি করে যে টাকা পায় তা নিয়েই ছুটবে দোকানে। কিনবে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস। কেউ কেউ কিছু টাকা জমাবে বাবা-মায়ের কাছে। শার্শা উপজেলার গ্রামগুলোয় হতদরিদ্র শিশুর সংখ্যা আশপাশের এলাকার চেয়ে একটু বেশিই। পরের জমিতে শ্রম দিয়ে, মাছ ধরে, শামুক বিক্রি করে চলে তাদের জীবন।

অন্যান্য শিশুরা যখন স্কুলে গিয়ে এটা-ওটা কিনে খায়, তখন বিকাশ আর রনির মতো দরিদ্র পরিবারের শিশুরা তা চেয়ে চেয়ে দেখতো। তবে এখন আর তাদের বন্ধুদের খাবার দেখতে হয় না। স্কুল শেষে অবসর সময়ে তারা আশপাশের খাল-বিল ও বাওড় থেকে শামুক কুড়ায়। পরে ওই শামুক বিক্রি করে এটা-ওটা কিনে খায়। যেদিন শামুক বেশি পায়, টাকাও বেশি আসে। তখন বাবা-মায়ের কাছে থাকা জমানো টাকা নেয়।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বিকাশ জানায়, আগে স্কুলে যাওয়ার সময় মা-বাবার কাছে টাকা চাইলে দিতে পারতেন না। তাই স্কুলে বন্ধুরা যখন খাবার খায় তখন সে তাকিয়ে দেখতো। এখন স্কুল ছুটির পর শামুক কুড়ায়। প্রত্যেক দিন ৬ থেকে ৮ কেজি  শামুক পায়। বিকালে ওই শামুক গ্রামের নূর ইসলামের কাছে বিক্রি করে মিষ্টি কেনার জন্য কিছু রেখে বাকি টাকা সংসার খরচের জন্য বাবা-মাকে দিয়ে দেয়।

 

সে জানায়, প্রতি কেজি শামুকের দাম ৫-৭ টাকা। স্কুলে গিয়ে খরচার জন্য ১০ টাকা করে নিয়ে যায়। বাকি টাকা বাবা-মায়ের কাছে জমা রাখে। বাবা ওই জমানো টাকায় তার খাতা-কলম, ব্যাট-বল, কখনও জামা-প্যান্ট কিনে দেয়।  শামুক ক্রেতা নূর ইসলাম জানান, কুড়ানো শামুক বিক্রি করে বাচ্চারা তাদের শখ মেটায়। আর সংসার চলে।

৫-৭ টাকা কেজিতে শামুক কিনে শিশুদের ঠকানা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন জেলার মাছের ঘেরে ওই শামুক তিনি ১০-১২ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। পথে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। পথের খরচ না থাকলে তিনি কেজিতে আরও ২/১ টাকা বেশি দিতে পারতেন।

পুলিশের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে নাভরণ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, এসব পথে পুলিশ কোনও গাড়ি আটকে টাকা নেয় না।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top