রাত ২:৪৭, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক
December 28th, 2016

 

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করলেও এক বছর পর ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার তথা তৎকালীন বার্মা স্বাধীনতা অর্জন করে। দেশটি স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৬২ সাল থেকে আজ অবধি অধিকাংশই সময় সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে।

 দেশটির আরাকান রাজ্য বর্তমান রাখাইন ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই মূল ভূখন্ড থেকে কিছুটা আরাকান এই রাজ্যের মানুষের জীবনাচার, সামাজিক বন্ধন, ভাষা ও কৃষ্টিবাদ অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে আরাকান রাজ্যে। সুতরাং রোহিঙ্গা কিংবা ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া কারো অপরাধ নয়। প্রকাশ্যে না হলেও মিয়ানমারের শাসক গোষ্ঠী বিশেষ করে রাখাইনের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিযোগ রয়েছে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের আগের আরকানবাসী পুর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত বা একীভূত হওয়া ইচ্ছা পোষণ করেছিল।

 সে সময়ে পাকিস্তান তাদের গ্রহণ করেনি এবং মিয়ানমারও তাদের ত্যাগ করেনি। সুতরাং এই অভিযোগ বা অজুহাত একটি মীমাংসিত বিষয়। তারপর কী এমন ঘটনা ঘটল যে ১৯৮২ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হল। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোন উপায়েই হোক তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করতে শুরু হলো রাষ্ট্র এবং জাতীয় পৃষ্ঠপোষকতার স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অত্যাচারে নির্যাতিত।

রাখাইন রাজ্যের স্থানীয় মগদের ভাষ্য রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী। সে দেশের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করতে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়নের সীমা অতিক্রম করেছে বার বার। ফলে প্রকাশ্যে শরণার্থী হিসাবে স্বল্প সংখ্যক এবং সেখানে অনুপ্রবেশকারী চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বিগত কয়েক দফায় বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। অনুকূল পরিবেশে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং সে দেশে বসবাসকারী অন্যান্য রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করতে সে দেশের সরকারকে বাধ্য করতে কুটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top