দুপুর ২:৩৫, বুধবার, ২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / রুদ্র বৈশাখের দাপটে দূর হোক সব অমঙ্গল
রুদ্র বৈশাখের দাপটে দূর হোক সব অমঙ্গল
এপ্রিল ১২, ২০১৭

মেজবা-উল আলম :পুরনো দিনের সব দু:খ, সব বেদনা ও গ্লানি কী বৈশাখ মুছে দিতে পারে না ? পারে না নিখিলের পরিত্যক্ত মৃতস্তুপ বিগত বছর কি ভস্মসার? নতুন বছরের নতুন পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপন করতে? পারেনা কি বিশাল বৈরাগ্যে আরবীয় জরা, মৃত্যু,ক্ষুধা, তৃষ্ণা, লাখো কোটি নর-নারীর হিয়া চিন্তায় বিকল বৈশাখ তার গেরুয়া বসন দিয়ে ঢেকে দিতে? বৈশাখকে রবীন্দ্রনাথ এই ভাবেই আবহন করেছেন।

রুদ্র বৈশাখের  দাপটে সব অমঙ্গল দুর হোক। ভস্মসার হয়ে উঠুক সমাজ জীবনে সব গ্লানি। নেতৃত্বের সব ব্যর্থতা নি:শেষ হোক, যেমন তৃণপূর্ণ  ঘূণৃচ্ছন্দে শূন্যে আলোরিয়া বৈশাখ হোক চুর্ণ রেণু রশ্মি। বৈশাখ তো শুধু ধবংস করে না , সৃষ্টির  প্রতীকও বৈশাখ। প্রাণোচ্ছ্বল জীবনের প্রতীক বৈশাখ। বৈশাখ নতুন দিনের নতুন জীবনের পদধ্বনি।

 বৈশাখের আগমনে এদেশে শত-সহস্র হৃদয় নতুন আশায় বুক বেধেছে। জরাজীর্ণ পুরোনো হাত থেকে মুক্তি পেতে চায় মানুষ। হিংসা প্রতিহিংসার আগুন থেকে শান্তিপূর্ণ জীবনের আশির্বাদ পেতে চায়। চায় নিরাপত্তা হীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে। চায় আইনের আশ্রয়ে আইনের রাজত্বে বসবাস করতে । জীবনের সর্বনিম্ন প্রয়োজন মেটাতে চায়।


 ক্ষুধা বেকারত্মের হাত থেকে অব্যাহতি পেতে চায়। বিভিন্ন পর্যায়ের  চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য চায় সন্ত্রাসবিহীন শিক্ষায়তনে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করতে। সব ধরনের অনিশ্চয়তার হাত থেকে  মুক্তি পেতে চায়। এ সবই সম্ভব যদি দেশে প্রচলিত সুশাসন এবং স্বশাসন থাকে।  যেকোন  সমাজে স্ব শাসন হল চুড়ান্ত লক্ষ্য। বাস্তবে কিন্তু দেখা যায় স্বশাসন সমাজে আসে সুশাসনের তীর ঘেঁষে। সুশাসনের লক্ষণ হল মানবাধিকার ধর্মীয় আচরণের মত অলঙ্ঘনীয় করে তোলা। ব্যক্তি প্রভাবের পরিবর্তে আইনের রাজত্ব সৃষ্টি করা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘিœত হওয়ার শত ছিদ্র বন্ধ করা।


 ভয়-ভীতি বা অনুরাগ বিরাগের উর্ধ্বে উঠে প্রশাসন পরিচালনা করা এবং সর্বোপরি শাসন-প্রশাসন যে ব্যক্তির  জন্য , ব্যক্তি যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কোন ক্রমেই  ব্যক্তিস্বার্থ রাষ্ট্রের যুপকাষ্ঠে বলি হতে পারেনা, সমাজে এমন বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠা। সুশাসনের উপযুক্ত কর্ষণে  সমাজ ভূমি প্রস্তুত হলেই সে মাঠে  স্বশাসনের সোনার  ফসল ফলে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতা পাওয়া যায়, উন্নয়নের চারদিকে প্লাবনকারী অগ্রগতির বন্যার কথা, মানুষ কিন্তু ছটফট করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং ডাল চাল লবণের মত সর্বনিম্ন পর্যায়ের  প্রয়োজনীয়  দ্রব্যের  মূল্য  বৃদ্ধির  যন্ত্রণায়।

 শিল্পের অগ্রগতি, বাণিজ্যের  প্রসার এবং বিনিয়োগ ঘোষণার খবরের কাগজের পাতা ভরে ওঠে যদিও কার্যত  বাজার কিন্তু পরিপূর্ণ হয়ে আছে  বিদেশী পণ্যে। অর্থনীতির সুস্থতার কথা শুনতে ভালো লাগলেও দেশের মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত জানে ঐ সব কথায় কত বেদনাদায়ক পরিহাস লুকিয়ে আছে।  নীতি নৈতিকতা সমাজ ছেড়ে গেছে, নইলে প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখি না কেন, ছোট্ট, ছোট্ট মেয়েরা এমনকি তাদের অভিভাবকরা কীভাবে হেনস্থা হচ্ছে। সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতা সমাজ থেকে নির্বাসিত। আপসকামিতা যা গণতন্ত্রের  মৌল সংস্কৃতি, আজ পথহারা। সত্য কথনে দু:সময় বটে। সবাই আজ নেতা। জনতার দুর্দশা আকাশছোঁয়া।


কে পারে সমাজ সংসার শোধরাতে ? পারবে কি বৈশাখ এই স্তুপকৃত আবর্জনাকে এক লহমায় উজাড় করে দিয়ে মানুষের জীবনে ক্ষণিকের জন্য একটু শান্তি এনে দিতে। পারবে কি বৈশাখ এই ধবংসস্তুপকে বিদায় করে তার ওপর সুস্থ জীবনের সৌধ নির্মাণ করতে? না। রবীন্দ্রনাথের মতই নিস্তব্ধ নির্বাক হবো ভাঙ্গিয়া মধ্যাহ্ন তন্দ্রা জাগি উঠি বাহিবার দ্বারে, চেয়ে রব প্রাণী শূন্য দগ্ধতৃণ দিগন্তের পারে। বৈশাখ তবুও এসেছে। জমাট বাধা অন্ধকারেও এসেছে  রুদ্র বৈশাখ।
লেখক ঃ সাংবাদিক -শিক্ষক
০১৭৯৭-৩২৮৩৪৩



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top