সকাল ৭:২৫, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / রাষ্ট্রপতির সাথে ওয়ার্কার্স পার্টির সংলাপ ইসি গঠনে সাংবিধানিক কাউন্সিল বা সার্চ কমিটির প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতির সাথে ওয়ার্কার্স পার্টির সংলাপ ইসি গঠনে সাংবিধানিক কাউন্সিল বা সার্চ কমিটির প্রস্তাব
December 27th, 2016

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পূর্নগঠনে সাংবিধানিক কাউন্সিল অথবা সার্চ কমিটিসহ ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। কাদের নিয়ে এই সাংবিধানিক কাউন্সিল ও সার্চ কমিটি গঠিত হবে, তারও একটি তালিকা উল্লেখ করেছে দলটি। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাক্ষাৎ করে এ সংক্রান্ত ৮ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে ওয়ার্কার্স পার্টি।

বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে দলটির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, এতবছর ধরে আমরা নির্বচন কমিশন নিয়ে একটা আইন করতে পারিনি। সংবিধানে যে বিধান রয়েছে সে অনুযায়ী আইনটি খুব জরুরিভিত্তিতে করা যায় বলে আমরা মনে করি। অধ্যাদেশ জারি করে অথবা সংসদে সিদ্ধান্ত নিয়েই এটি করা যায়। এই আইনের অধীনে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন হতে পারে। আর এটি সম্ভব না হলে গতবারের মতো সার্চ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দিয়ে এই কমিটি হতে পারে। এটা সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি যাবে এবং তারা যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। নির্বাচন কমিশনার দুই জন না হলেও একজন নারী কমিশনার থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও জানান মেনন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি সংলাপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী। এই সংলাপ থেকে একট সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা আমাদের বিস্তারিত প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেছি।

৮ দফা প্রস্তাব: মেননের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশকৃত ৮ দফা প্রস্তাবে রয়েছে- এক. নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রতি তদ্রুপ মান্যতা ও মর্যাদা থাকতে হবে, যাতে করে নির্বাচন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারে। দুই. সংবিধানের ১১৮ বিধি বাস্তবায়নার্থে আইনের বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন তৈরি করা। রাষ্ট্রপতি জরুরি ভিত্তিতে সংসদ অধিবেশন ডেকে বা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করতে পারেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চে ১৫ দিন থেকে ১ মাস সময় লাগতে পারে। তিন. এই আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ নিয়োগের জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল থাকবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে এই সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠিত হবে। এই সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির নিকট প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করবেন।

রাষ্ট্রপতি তাদের পরামর্শমতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করবেন। চার. বিকল্প হিসাবে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। প্রধান বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান, মহা হিসাবরক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে এই সার্চ কমিটি গঠন হতে পারে। এই কমিটি কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে ৩ জনের নাম প্রস্তাব করবে। সার্চ কমিটির দেওয়া নামের তালিকা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এখান থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি এই তালিকা থেকে নিয়োগ দেবেন। পাঁচ. নির্বাচন কমিশনের সদস্য হবে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট। যার মধ্যে দু’জন নারী সদস্য থাকবেন। ছয়. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি করার যে প্রস্তাব বিএনপি বা অন্যদলগুলো করেছে, তা কোনোক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সাত. যুদ্ধ অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বা দন্ডিত হয়েছেন বা কোনও সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন ব্যক্তিবর্গের যে কোনও পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রস্তাবিত আইনে নিষিদ্ধ করতে হবে। আট. নির্বাচনে টাকার খেলা, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ আইনে নিষিদ্ধ থাকতে হবে।
এসময় প্রতিনিধি দলে রাশেদ খান মেনন ছাড়াও রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, হাজেরা সুলতানা, ইকবাল কবির জাহিদ, কামরুল আহসান ও অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top