দুপুর ১:০৭, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / রাষ্ট্রপতির ওপরই নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে : ফখরুল
রাষ্ট্রপতির ওপরই নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে : ফখরুল
জানুয়ারি ১১, ২০১৭

দেশের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতির উপরই এখন নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচি-কাঁচা মিলনায়তনে বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এক-এগারো প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ এক-এগারো। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গায়ের জোরে একটি সংবিধানসম্মত সরকারকে উৎখাত করে বাংলাদেশে একটি বেআইনি সরকার প্রতিষ্ঠা করার দিন। দিনটি গোটা জাতির জীবনে একটা কলঙ্কময় দিন। কারণ, সেইদিন একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের চেহারা আমরা প্রথম দেখতে পেয়েছিলাম। সেই ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করা। দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে এক-এগারোর দশ বছর পরে আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে সেই বিরাজনীতিকরণের আরেকটি অধ্যায় দেখছি। বিএনপি একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল, দলটির রাজনৈতিক মতবাদ-দর্শনকে কিভাবে নিঃশেষ-নির্মুল করে দেয়া যায় তার পরিকল্পনা চলছে। আজকের যে কাজ সেটা সেই এক-এগারোরই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। সোহরাওয়ার্দীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত মঙ্গলবারের ভাষণ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে আইনের শাসন, সুশাসন, গণতন্ত্র কোথায় কিভাবে আছে, আমরা বুঝতে পারি না। কারণ, সবকিছু এখন একাকার হয়ে গেছে এক-এ। একজনই রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা পালন করেন। একজনই সরকারপ্রধান, বিচারেরও প্রধান, তদন্তেরও প্রধান। বিএনপিনেত্রীর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু উনি রায় দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি তো সরকারের প্রধান। আপনি (এক্সিকিউটিভ) নির্বাহী বিভাগেরও প্রধান। একটি মিথ্যে মামলা হয়েছে, সেই মামলা অনুসন্ধানের পর এখন বিচার চলছে। কিন্তু আপনি ইতোমধ্যেই অনুসন্ধানও করে ফেলেছেন, অভিযুক্তও করেছেন, ট্রায়ালেও নিয়ে গেছেন। আপনি বলে দিচ্ছেন, (খালেদা জিয়া) টাকা চুরি করেছেন। এই মামলায় এখন আর বিচারকের রায় দেয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনি নির্বাহী প্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে যখন সাবেক আরেকজন সরকারপ্রধানের মামলায় এমন বক্তব্য দিয়ে দেন, তখন সেই মামলার রায় কোনদিকে যাবে তা আমরা সহজেই বুঝতে পারি। ফখরুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং সেই মামলাকে প্রভাবিত করে বেগম খালেদা জিয়া ও দেশপ্রেমিক-সংগ্রামী মানুষকে আপনারা দাবি রাখতে পারবেন না, এটিই বাস্তবতা। ‘সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই  বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তোরণের একমাত্র পথ’ বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সংলাপে বসতে আমরা বারবার ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা একটিমাত্র কারণে সবকিছুই নাকচ করে দিচ্ছেন। তারা জানেন, সংলাপের পরে যদি বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে তাদের পক্ষে নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব হবে না। এছাড়াও এত যে দুর্নীতি চলছে, এত যে আইন ও সংবিধান ভঙ্গ করা হচ্ছে, তখন এসবের জন্যও তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন-সাংবাদিক নেতা কবি আব্দুল হাই শিকদার, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট নেতা জাকির হোসেন, অ্যাবের নেতা প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top