বিকাল ৩:১৯, মঙ্গলবার, ৩০শে মে, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / রাণীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট : রোগীদের ভোগান্তি
রাণীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট : রোগীদের ভোগান্তি
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসা সুবিধার অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসারের ৭টি পদ শূন্য থাকায় প্রতিদিন প্রান্তিক জনপদ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা তাদের কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অফিস চলাকালীন সময়ে শুধু হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিদিন প্রায় তিন শত রোগীর ভিড়ে উপ-সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ স্থাপিত হওয়ার সাথে ১৯৮৪ সালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বালুভরা মৌজায় ৬.২৫একর জমি সরকার ক্রয় করে প্রথমে ৩১শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সঠিক ভাবে প্রদান করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের বাস্তবায়নে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নত করার লক্ষ্যে ১৯শয্যা বিশিষ্ট তিন তলা ভবন নির্মাণ কাজ  শেষে ২০১২ সালে  হস্তান্তর হলেও ওই ওয়ার্ডের জনবল, ওষুধ, রোগীদের খাদ্য সহ অন্যান্য উপকরণের সংকটের কারণে ৬ বছর ধরে নির্দিষ্ট বরাদ্দ না পাওয়ায় অত্যাধুনিক ভবনের কার্যক্রম চালু করতে পারছেন না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান। তবে আশার বাণী চলতি বছরে জুন মাসের দিকে দেশের অন্যান্য উপজেলার মত রাণীনগর হাসপাতালেও রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিদিন প্রায় বর্হি বিভাগে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্য থেকে প্রায় ২০ জনের মত রোগী সুচিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। মাঝে মধ্যেই প্রকট আকারে শয্যা ও ওষুধ সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের  সেবা দিতে হিমশিম খায়। অনেক সময় মেঝে ও বারন্দায় ফেলে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনী জনবল এবং রোগীদের খাদ্য সরবরাহের অনুমোদন না থাকাই এই ভবনের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে আন্তঃবিভাগ রোগীদের দুর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে। ওষুধ সংকটের কারণে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে গরিব রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ কেনে খেতে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অযতœ আর অবহেলায় তা পরিত্যক্ত হয়ে আছে। একটি মাত্র পুরাতন এক্সরে মেশিন আছে যা খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। হাসপাতালের ভিতরে বড় মাপের মানসম্পন্ন  স্টোর রুম না থাকায় নতুন ভবনের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী অপরেশন থিয়েটারসহ যত্রতত্র মালসামানা ফেলে রাখতে হয়। বর্তমানে হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসারের ৭ টি পদ শূন্য থাকায় প্রতিদিন প্রান্তিক জনপদ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 


এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার এসএম নজমুল আহসান জানান,  মেডিক্যাল অফিসারের ১২ টি পদের মধ্যে ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও  রাণীনগরবাসীর যথাযথ চিকিৎসা  সেবা দিতে আমাদের পেশাদ্বারিত্বের কোন ঘাটতি নেই। প্রয়োজনীয় অসুবিধা গুলো সমাধান করা গেলে রাণীনগরবাসী আরো ভাল স্বাস্থ্য সেবা পাবে।
রাণীনগর উপজেলা বাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়। দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটের কারণে রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে অল্প জনবল দিয়ে কর্তৃপক্ষ রোগীদের যথারীতি চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top