সন্ধ্যা ৬:০৬, রবিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / রাজউক আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান: দুদক চেয়ারম্যান
রাজউক আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান: দুদক চেয়ারম্যান
December 20th, 2016

করতোয়া ডেস্ক : গণশুনানিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শুনে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, রাজউক ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ একটি প্রতিষ্ঠান।
বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাজউকের কার্যক্রম নিয়ে এই গণশুনানিতে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে। রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বরাদ্দ পেলেও প্লট বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রথম শুনানিতে রাজউক কর্মকর্তাদের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমস্যার সমাধান না পেয়ে পুনরায় অভিযোগ করেন অন্তত ৩৭ জন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানিতে উঠে আসা সমস্যার সমাধানের র্নিদেশ দিয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন বলেন, “আমরা প্রতিটি বিষয় নজরদারি করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান না করতে পারলে আইনি ব্যবস্থা নিব। অভিযুক্তরা যে পদেই থাকুন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৭ সালে আমরা নতুন রাজউক দেখতে চাই।”
রাজউকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে রাজউককে এলাকাভিত্তিক গণশুনানি আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।

শুনানিতে দুদকের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ও ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের পাশাপাশি রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
আবুল হোসেন নামে একজন অভিযোগ করেন, জমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ২৫ বছর আগে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে একটি প্লট বরাদ্দ পান। দুই কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও এখনও প্লট বুঝে পাননি।
উত্তরায় একটি প্লট বুঝে পেতে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা দুই কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন নাসির খান নামে একজন।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম রাজউক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই যে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠল, এতে কি আপনাদের মাথা হেঁট হয়ে যায় না?”

আবদুর রউফ ভূইয়া নামে একজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক বাসিন্দা তার এলাকার সড়কের ওপর বাড়ি বানিয়েছে। এ নিয়ে রাজউকে বারবার অভিযোগ করলেও সুরাহা হয়নি। এর সঙ্গে রাজউকের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ।

“আমার ধারণা রাজউকের কেউ এর সঙ্গে জড়িত। এজন্যই বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

শুনানিতে আমানুল্লাহ নামের একজন অভিযোগ করেন, ২৭ জানুয়ারির শুনানিতে বাড্ডা পুনর্বাসন প্রকল্পে তার একটি প্লট এক মাসের মধ্যে অবমুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজউকের বক্তব্য জানতে চান।

রাজউকের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি খুব সহজ না। আবেদনকারীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। একটু সময় লাগবে।”

তখন দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “২৭ তারিখেও আপনারা এই কথা বলেছিলেন। এখন আবার একই কথা বলছেন। একটু সময় লাগবে মানে কী? তাহলে এই ১০ মাস আপনারা কী করলেন?”
রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, “২৭ জানুয়ারির শুনানিতে তোলা অভিযোগগুলোর কয়েকটি নিষ্পত্তি হয়েছে। অনেকগুলোই হয়নি।

“আজকের শুনানিতে সবাই খোলামেলাভাবে যে কথাগুলো বলেছেন তা আমরা গ্রহণ করেছি। শুনানির নির্দেশনার আলোকে আমরা সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

রাজউকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে প্রতি সোমবার তারা গণশুনানি করছেন বলে জানান রাজউক চেয়ারম্যান।

“জবাবদিহির মাধ্যমে আমাদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আমাদের পুরো সেবা প্রক্রিয়া অটোমেশন করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমাদের সব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে,” বলেন তিনি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :