দুপুর ১২:১৩, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ রংপুর / রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম
রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম
এপ্রিল ১২, ২০১৭

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় চলছে নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম এবং বসবাস। অনেক ভবনের বয়স একশো বছরের কাছাকাছি অথবা অতিক্রম করেছে। অনেক  উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে চাকুরির খাতিরে অবস্থানসহ পরিবার নিয়ে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রের অতিথি ভবন  সার্কিট হাউজও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায়। ফলে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কোন কাজে রংপুরে এসে বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে রাত্রি যাপনে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি অধিক ভূমিকম্প প্রবন এলাকার মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্গত। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগের ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। শুধু তারা নিয়মিত বিভাগীয় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে চলেছেন।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও ভবন হচ্ছে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাস ভবন, কারাগারের ইটের গাঁথুনীর সাধারণ টয়লেট, সদর হাসপাতাল (পুরাতন অফিস), সদর হাসপাতাল ৩য় শ্রেণী এবং ৪র্থ শ্রেণীর বাস ভবন। এছাড়াও জেলা জজ কোর্ট (পুরাতন) জেলা ও দায়রা জজের বাস ভবন, সার্কিট হাউজ, জোনাল সেটেলমেন্ট রেকর্ড রুম, সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ গার্ড সেড, ট্রেজারী ভবন (পুরাতন), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়  সংলগ্ন এডিএম কোর্ট ভবন, রেকর্ড রুম, রেড ক্রিসেন্ট ভবনগুলোর বয়স ১শ বছরেরও বেশি (১৮৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৯২০খ্রিঃ ) এর মধ্যে নির্মিত) এবং এর প্রকৃতি ব্রিক ম্যাশনরী হিসেবে উল্লেখ করে ভবন ব্যবহারকারীদের সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

 বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, ভূমিকম্প প্রবন এলাকাকে চিহ্নিত করার সুবিধার্থে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১নং  এ আছে সবচেয়ে অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা । ২ ও ৩ এ আছে তুলনামূলক কম ভূমিকম্পন প্রবন এলাকা। তিনি দাবি করেন রংপুরের কিছু অংশ বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকা রয়েছে ১নং এ। তিনি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা করে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দ্বারা ভূমিকম্প সহনীয় ক্ষমতা আছে কী না তা পরীক্ষা করার আহবান জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত ভবন গুলোর মধ্যে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাসভবন হচ্ছে অন্যতম। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সিনিয়র জেলার, জেলারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

রংপুর কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়  কারা হাসপাতাল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে জেলের একটি কক্ষে হাসপাতালের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েদী থাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকেও কয়েদীদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন কেন্দ্রীয় কারাগার এর জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাস ভবন পরিত্যক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, সদর হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সকল কার্যক্রম অন্যত্র নেয়ার চেষ্া করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন ভবন স্বল্পতার জন্য বাধ্য হয়ে এখনো কিছু কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে করতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টারে বসবাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্পদিন হলো তার যোগদানের। তারপরও তিনি চেষ্টা করবেন পরিত্যক্ত ভবনে যাতে কেউ না থাকেন ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালানো এবং বসবাসকরাকে আত্মঘাতী বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মত দেন। এ সময় তিনি রানা প্লাজার ট্রাজেডির  কথা উল্লেখ করেন। তাই তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা এবং সংস্কারের জন্য সিটি করপোরেশন এবং গণপূর্ত বিভাগকে সমন্বয় করে কাজ করার আহবান জানান। 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top