সকাল ৬:০৭, শনিবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ খুলনা / যশোরে পুলিশি হেফাজতে যুবককে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়
যশোরে পুলিশি হেফাজতে যুবককে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়
January 6th, 2017


যশোর প্রতিনিধি : যশোরে দু’লাখ টাকা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আবু সাঈদ নামে এক যুবককে থানার ভেতরে ঝুলিয়ে পেটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণ ঘটনা শুনেছেন জানালেও ওই যুবকের পরিবার তা অস্বীকার করেছে। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনও কোন বক্তব্য দেয়নি। যশোর জেলা পুলিশের প থেকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ছবিটি অনেক পুরনো। আবু সাঈদ নামে কাউকে সম্প্রতি ধরে এনে এমন নির্যাতন করা হয়নি।


সূত্র জানায়, যশোর সদর উপজেলার দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের কলেজপাড়ার নূরুল হকের ছেলে আবু সাঈদ। তাকে গত বুধবার রাতে আটক করেন কোতোয়ালি থানার এসআই নাজমুল, এসআই নাহিয়ান ও এএসআই হাদিবুর রহমান। পরে তার কাছে দু’লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই অফিসার। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে বাঁশ দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। এ কথা তার পরিবার জানতে পেরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সে ওই রাতেই ছাড়া পায়। সাঈদকে ঝুলিয়ে মারপিটের এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড হয়।

 এরপর বিভিন্ন সংবাদও প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছেলেটি মাঝে মধ্যে নেশা করলেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে পুলিশের এ নির্মম নির্যাতন ও বাণিজ্য বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসআই নাহিয়ান জানান, ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। এদিকে অপর অভিযুক্ত এএসআই হাদিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। অভিযুক্ত এসআই নাজমুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি গত দুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাঈদ নামে কাউকে আটক বা ঘুষ গ্রহণের সাথে তিনি জড়িত নন।


এএসআই হাদিবুর রহমান বলেন, যা বলা হচ্ছে থানায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সাঈদের বড়ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, বুধবার রাতে আমার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আসমত আলী চাকলাদার দাবি করেছেন, সাঈদ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, পুলিশ আবু সাইদের উপর কোন নির্যাতন করেনি। তবে এ অভিযোগ ওঠায় ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :