দুপুর ১:২০, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / মেধাবীরা যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায়: প্রধানমন্ত্রী
মেধাবীরা যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায়: প্রধানমন্ত্রী
মার্চ ১৬, ২০১৭

করতোয়া ডেস্ক : মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে বিপথগামী হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষকদের বিশেষ অনুদান প্রদানের অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। দেশে না, বিদেশেও যারা পড়াশোনা করে, তারা তাদের মেধার দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে। তাই, এরা যেন কেউ বিপথে না যায়, এধরনের জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ত না থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য শিক্ষক-অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আমি আবেদন জানাচ্ছি। ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তিকে’ বিশ্বব্যাপী নতুন উপসর্গ হিসেবে বর্ণনা করে এসবের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। সকলে এ ব্যাপারে যদি একটা সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে আমরা দেশকে নিশ্চয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সক্ষম হব।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকালে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুদান প্রদানের এই অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানেই হোক জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসের স্থান কখনো বাংলাদেশে হবে না। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই চট্টগ্রামের সীতাকু-ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৯ ঘণ্টার অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। ওই অভিযানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। বক্তব্যের শুরুতেই জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণা বিশেষ অনুদানের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থী, ফেলো, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা। তার হাত থেকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপের অনুদানের চেক নেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বেগম জহুরা খাতুন ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রভাষক তানভির হাসান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শাহীন আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. কবীর উদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ড. মোহাম্মদ মনীরুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু বিন হাসান গবেষণা অনুদানের চেক নেন। একহাজার ৭০২ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের অনুদানের চেক নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও কেমিকৌশল বিভাগের আশিষ কুমার বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বেগ ফাহমিদা সুলতানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কেয়া মজুমদার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক আবদুল্লাহ আল মোবিন। ২০০৯-২০১০ থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী ও গবেষকের মধ্যে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে একহাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী ও গবেষককে নয় কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান গবেষণায় সর্বাত্মক সহযোগিতায় তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেলোশিপের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নকাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেই আমার বিশ্বাস।

২০০৯-২০১০ থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত একহাজার ৭৫৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৮ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গবেষণা অনুদান দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গবেষণা করে জাতিকে ফলাফল দিতে পারবেন, তাদের আরও সহায়তা করার ইচ্ছা আমাদের আছে। চলতি অর্থবছরে ৩৯৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারো কাছে মাথা নিচু করে আমরা চলবো না। কারো কাছে হাত পেতে আমরা চলবো না। আমাদের সীমিত সম্পদ এটা ঠিক।

কিন্তু, আমি মনে করি; পরিকল্পিতভাবে এই সীমিত সম্পদ যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবহার যদি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হবে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখানেও আমাদের প্রচুর সায়েন্টিস্ট দরকার। পরমাণু বিজ্ঞানের জ্ঞানসম্পন্ন সায়েন্টিস্ট দরকার.. পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য লোকবল দরকার। আমরা প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন বিজ্ঞান শিক্ষায় এগিয়ে আসে। ভবিষ্যতে যেন তারাই এগুলো পরিচালনা করতে পারে। উন্নত বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও ইনস্টিটিউটে পরিচালিত গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের মাধ্যমে দেশে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরিই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পের আওতায় এযাবত বিদেশে ৫০ জন এমএস ও ৬০ জন পিএইচডি এবং দেশে ১০০ জন পিএইচডি ও ১১ জন পিএইচডি-উত্তর গবেষণায় ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে বিদেশে এমএস কোর্সে ৩৭ জন ও পিএইচডি কোর্সে ৩০ জন এবং দেশে পিএইচডিতে ৩৮ জন এবং পিএইচডি-উত্তর কোর্সে ৮ জন গবেষণা শেষ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে যাতে ফেলোশিপ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা যায় সে জন্য গঠন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ট্রাস্ট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top