রাত ৪:১২, শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’
‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’
এপ্রিল ১৩, ২০১৭

বিদায় ১৪২৩। জীর্ণ শীর্ণ ঝরাপাতা তুল্য বছরটি আজ বিগত। নববর্ষের সূর্যোদয়ে নতুন সম্ভাবনা সবুজ পাতার মতো অংকুরিত হবে আমাদের জীবনে, সমাজে এই প্রত্যাশায় স্বাগত জানাই আজ নতুন বঙ্গাব্দকে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতেই আজ বর্ণিল আয়োজন। গোটা দেশ পালন করছে নববর্ষ। জীর্ণ মলিনকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করে নেওয়ার দিন এটি। ধর্ম-বর্ণ -নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব।


 গ্রামাঞ্চলে শুরু হলেও পয়লা বৈশাখের উৎসবের আড়ম্বর এখন শহরগুলোতেই বেশি। জেলায়- উপজেলায় বসে বৈশাখী মেলা, আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়ীরা খুলে বসেন হালখাতা। পথ-ঘাট, মাঠ মঞ্চ সবকিছু ভরে ওঠে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। বাংলা সনের উদ্ভব হিজরি সনের অনুসরণে। পার্থক্য এই যে, হিজরি চন্দ্র সন আর বাংলা সৌর সন, যার সঙ্গে মিল রয়েছে খ্রীষ্টিয় সনের। কৃষি ভিত্তিক সমাজে ফসলের সঙ্গে সম্পৃক্ত উৎসবের দিন। এভাবে বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব হয়ে। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি ওৎপ্রোতভাবে জড়িত।


 বাংলা নববর্ষ আমাদের সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-ধনী দরিদ্র, জাতি গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই বাংলা নববর্ষে মিলিত আমরা যে উৎসবে, যে উৎসব আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির মানবিক মূল্যবোধে দেশকে ভালবাসতে শেখায়। শেখায় ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য-এই সত্যকে। পুরনো বছরের সব দুঃখ-বেদনা, ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ধরে এগিয়ে চলার নতুন প্রত্যয়ে শুরু হোক নতুন বছর। নতুন বছর হোক সবার জন্য কল্যাণকর।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top