দুপুর ১২:০৯, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / মামলা চলবে, তারেকপত্নী জোবায়দাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
মামলা চলবে, তারেকপত্নী জোবায়দাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
এপ্রিল ১২, ২০১৭

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা বাতিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের আবেদন খারিজ করে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ মামলার রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেয়। চিকিৎসক জোবাইদা স্বামী তারেকের সঙ্গে আট বছর ধরে যুক্তরাজ‌্যে রয়েছেন। নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য হাই কোর্ট তাকে আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে বলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জোবাইদার বিরুদ্ধে দদুক মামলাটি করেছিল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০০৮ সালে এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এখন সেই বাধা কাটল।

নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মাহবুব আলী খানের মেয়ে জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন। তার দুই বছর আগে তারেকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে না ফেরায় ২০১৪ সালে জোবায়দাকে বরখাস্ত করে সরকার।

তারেক মুদ্রাপাচারের এক মামলায় দণ্ডিত। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলাও রয়েছে। আর তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন।

তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শ্বাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় তারেক রহমানকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় জোবাইদা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারেক তার স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার দুটি এফডিআর করে দেন। এভাবে জোবাইদা তার স্বামীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর জোবাইদা রহমানের মামলা বাতিলের আবেদনে হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয়।

ওই রুল শুনানির জন্য গতবছর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চে তোলা হলে বিচারক বিব্রত বোধ করেন। প্রধান বিচারপতি এরপর মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চে পাঠান। সেখানে রুল শুনানির পর আদালত গত ১০ জানুয়ারি বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

হাই কোর্টে জোবায়দা রহমানের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

বুধবার রায়ের পর খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছে এবং আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।” 
অন্যদিকে জোবায়দার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “উনি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, তাই আদালত আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে, যেন কোনো বাধাবিঘ্ন ছাড়া তিনি বিচারিক আদালতে গিয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। এটা আত্মসমর্পণের নির্দেশ নয়।”

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top