বিকাল ৩:০৩, বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / মাদকের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য
মাদকের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য
এপ্রিল ১৬, ২০১৭

মীর রাকিব হাসান : আমাদের সমাজের সামাজিক অস্থিরতা আশংঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তা অতি সাম্প্রতিক সময়ের একটি ভয়ংকর বিষয় হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান আমাদের দেশে প্রধান ও অন্যতম সমস্যা মাদক। শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে মূলত শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন মাদকের অবাধ বিচরণ। অতি সম্প্রতি সময়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা করতোয়া প্রকাশিত গত ২৮ মার্চ শিরোনামে আমরা দেখতে পারছি। ‘নাটোরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন’ নাটোর সদর উপজেলার তেলকূপি গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন হাওয়া বিবি (৪৫) নামে এক নারী।


 ২৭ মার্চ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাওয়া বিবি ওই এলাকার মমতাজ হোসেনের স্ত্রী। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, সকালে হাওয়া  বিবি রান্না করছিল এ সময় ছেলে শিমুল এসে তার কাছে টাকা চান। এনিয়ে মা ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শিমুল ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিড়ানী দিয়ে গলায় কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা হাওয়া বিবির মৃত্যু হয়। এসময় তাকে বাঁচাতে এলে হাওয়া বিবির বাবা শুকর খাঁ (৮০) আহত হন।


 তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে। ওসি আরও জানান এ ঘটনার পর এলাকাবাসী শিমুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তার বিরুদ্ধে বাবা মমতাজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছেন। আমরা দেখতে পারছি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় অর্ধকোটি (৫০ লক্ষ)। এর মধ্যে অর্থাৎ ৪০ লক্ষই তরুণ। ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ এ সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। মাদকাসক্তদের আশি ভাগই তরুণ যুবক ও কিশোর বলে জানা গেছে। ভারত সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, গাঁজা বিভিন্ন নেশা জাতীয় ইঞ্জেকশন পাওয়া খুব সহজ। প্রায় প্রতিদিন ভারত সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা ও জীবন নগর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে এসব মাদকদ্রব্য ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঢুকছে। তারপর রেলপথ ও সড়ক পথ দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে।


অতি সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতি নেশাদ্রব্য আমাদের যুব সমাজ। বর্তমান সমেয় অতি জনপ্রিয় নেশায় আর্বিভাব ঘটেছে যার নাম ইয়াবা, অনেকে ছদ্মনাম হিসাবে বলে বাবা আমাদের দেশে। এই ইয়াবা কিশোর তরুণ যুব সম্প্রদায় অতি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করছে। “ুধনধ” শব্দটি দুটি থাই শব্দ “ুধৎ” ও “নধয” থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো ক্রেজি মেডিসিন বা উত্তেজক ঔষধ। উত্তেজক মাদক ইয়াবা যারা নিয়মিত ব্যবহার করে তাদের ফুসফুস, লিভার ও কিডনী নষ্ট হয়। দীর্ঘ দিন ইয়াবা ব্যবহার করার ফলে স্পিডব্যাক অথবা ক্রাংব্যাক নামক হ্যালোসিনেশন তৈরি হয়।


 এত ব্যবহারকারীর মনে হয় যেন সারা শরীরে চামড়ার নিচ দিয়ে ছারপোকা কিলবিল করে নড়ে বেড়াচ্ছে এবং ব্যবহারকারী এদের টিপে বের করার জন্য মরিয়া হয়ে উন্মাদ আচরন করে থাকে। ইয়াবা ব্যবহার শেষে হাফ লাইফ পার হওয়ার পর রক্তপ্রবাহে এর ক্রিয়া হয়ে গেলে, কিংবা ব্যবহৃত মাত্রায় প্রয়োজনীয় ফলোদয় না হলে ব্যবহারকারীর মধ্যে চরম অবসাদ, হতাশা, বিশাদ ও নৈরাশ্য সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারী তখন যে কোন রকম অপ্রত্যাশিত আচারণ করতে পারে। এ অবস্থায় মানুষ খুন করাও বিচিত্র কিছু নয়। তীব্র প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রিয়ার সময় ব্যবহারকারীর হতাশা ও নৈরাশা এত মারাত্মক হতে পারে যা তাকে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।


মাদকাশক্ত ব্যক্তিকে আমরা বলতে পারি অসুস্থ ব্যক্তি। যেন কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে অসুস্থ না হন সেদিকে সর্বপ্রথম তার পরিবারের ভূমিকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, একটি কিশোর বা কিশোরীর আচরণগত পরিবর্তন বা সে কার সাথে মেলামেশা করছে সেটি লক্ষরাখা পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠ সদস্যদের অতিজরুরি। এছাড়া আমাদের সমাজে প্রতিটি দায়িত্ববান নাগরিকদের পবিত্র দায়িত্ব নীরবতার সাংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন।
লেখক : সংগঠক  
০১৭০৪-৩৮৭৪৯০



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top