সকাল ১০:২৯, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / মাত্র ১০ বছরে ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি, অবশেষে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে
মাত্র ১০ বছরে ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি, অবশেষে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে
মার্চ ২০, ২০১৭

মোবাইল কোম্পানীর কাস্টমার কেয়ারের লোক পরিচয়ে বিকাশ এজেন্ট ও গ্রাহকদের নম্বরে ফোন দিত ওরা। এরপর নেটওয়ার্ক সমস্যা থেকে রেহাইয়ের কথা বলে টিপতে বলতো কয়েকটি নম্বর। আর নম্বরগুলো টেপার সাথে সাথে ওই বিকাশ নম্বর থেকে সব টাকা চলে যেতো চক্রটির নিজস্ব নম্বরে। চক্রের হাতে স্বর্বশান্ত হওয়াদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন রায়নগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোঃ ফারু হোসেন মাতবর (২৮) ও রাজিব খান (২০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৯৩ টি বিভিন্ন কোম্পনীর মোবাইল সিম, ৫ টি মোবাইল সেট ও বিভিন্ন বিকাশ নম্বর লেখা ২ টি টালী খাতা পাওয়া যায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিকাশের টাকা আত্মসাত করেই প্রতারক ফারুক গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি।   

পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, কাজী জাকির হোসেন নামে শ্যামপুর মার্কেটে এক বিকাশ এজেন্ট রয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে তার বিকাশ (০১৭৮৭৬৬১৯১৫) নম্বরে ০১৮৭১৪১৬২৪৭ নম্বর থেকে কল আসে এবং গ্রামীন ফোনের কাস্টমার সার্ভিসের লোক বলে পরিচয় দেয়। তার বিকাশ নম্বরে নেটওয়ার্ক সমস্যা সংক্রান্তে জানতে চায়। কথাবলার একপর্যায়ে অজ্ঞাত লোকটি কয়েকটি নম্বর  উঠাতে বলে এবং সেই নম্বরগুলোতে কল করতে বললে জাকির কল দেন। পরে তিনি দেকতে পান তার বিকাশ মোবাইল একাউন্টে থাকা ৪৪ হাজার টাকা ০১৮৫০৮৫৪১৮৩, ও ০১৭৮২৮৬২২৬৭ মোবাইল নম্বরে চলে গেছে। এ বিষয়ে তিনি শ্যামপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তে নামে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত মোবাইল ফোন কোম্পানীর কথিত কাস্টমার সার্ভিসের সংঘবদ্ধ চক্র সর্ম্পকে তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। তাদের দখল থেকে প্রতারণাকাজে ব্যবহৃত

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, তারা মোবাইল ফোন কাস্টমার সার্ভিসের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।অ  গ্রেফতার ফারুক ১০ বছর ধরে বিকাশের টাকা আত্মসাত ছাড়াও বিভিন্ন মোবাইলে ফোন দিয়ে পুরষ্কারের লোভ দেখিয়ে নানা ফন্দিতে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে বিশেষ এ্যাপস্ ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানীর কাস্টমার সার্ভিস ও বিকাশের কাষ্টমার সার্ভিসের নম্বর ক্লোন করে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন গ্রাহক বা বিকাশ এজেন্টদের মোবাইলে থাকা টাকা প্রতারণামূলক ভাবে হাতিয়ে নেয়। ফারুক তার দীর্ঘদিনের প্রতারণার টাকা দিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। যা এলাকার লোকজনের মধ্যে এক ধরনের কৌতুহলের সৃষ্টি করে। এক সময় ফারুক ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরিকরে কাঁচের গ্লাস বিক্রি করতো। এদিকে গ্রেফতার রাজিব বিভিন্ন দোকান থেকে ভূয়া নামে রেজিষ্ট্রি করা সিম সংগ্রহ করে থাকে এবং ফারুকের প্রতারনার মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা ভাঙ্গা থানা এলাকার কতিপয় অসাধু বিকাশ দোকানদারদের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন বিকাশের দোকান থেকে বিকাশ লেন-দেনকারীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কতিপয় অসাধু বিকাশ দোকানদাররা প্রতারক চক্রের কাছে ম্যাসেজের মাধ্যমে গ্রাহক বা টার্গেটকৃতদের মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকে। চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অবিযান চলছে বলেও জানান পিবিআই কর্মকর্তা বশির আহমেদ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top