দুপুর ১২:৫৬, শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ প্রবাস / ‘মরে তো যাবোই, দোয়া করো যাতে কষ্ট কম হয়’
‘মরে তো যাবোই, দোয়া করো যাতে কষ্ট কম হয়’
জুন ১৫, ২০১৭

করতোয়া ডেস্ক: ‘লন্ডনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যখন ঘটে, তখন ফজরের নামাজ শেষ। আগুন ছড়াইতেসে সবাই দেখতেসে। ও ওর চাচাতো ভাইয়ের কাছে শেষ ফোনকল করেছে, ভাইয়া দোয়া করো, যাতে আমাদের কষ্ট কম হয়। মারা তো যাবোই, কষ্ট যাতে কম হয় দোয়া করো।’ যুক্তরাজ্যের লন্ডনের নর্থ কেনসিংটনে ২৪ তলা এক ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ তলায় বসবাসরত এক বাঙালি পরিবারের মেয়ে হোসনার আকুতির কথা জানাচ্ছিলেন লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ওর আত্মীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, ওর বিয়ের কার্ড প্রস্তুত ছিল। বিয়ের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ। এখানে আগামী ২৯ জুলাইয়ের  জন্য হল বুকিং দেওয়া হয়েছে। সেই মেয়ের কণ্ঠে শেষ আকুতি ভেসে আসে, মরে তো যাবোই, দোয়া করো যেন কম কষ্ট হয়। তারা এই ভবনের ১৭ তলায় ১৪৪ নম্বর ফ্ল্যাটটিতে ছিলেন।’ এর আগে গত রাতে বাংলাদেশি সময় দুটার দিকে তিনি (মুনজের আহমেদ চৌধুরী) ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেয়েটির বিয়ের খবরসহ লেখেন, ‘ লন্ডনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এ পরিবারটি।

কোনও খোঁজ পেলে উল্লিখিত নাম্বারে জানান।’ নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, কমরু মিয়া, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনার বিরইনবাদ গ্রামে। এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। মুনজের আহমেদ বলেন, ‘ওরা ফ্ল্যাটটিতে বছর খানেক আগে উঠেছে। আর কোনও বাঙালি পরিবারের নিখোঁজ হবার খোঁজ-খবর এখনও আমরা পাই নাই।’ পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বলতে গিয়ে মুনজের বলেন, ‘ওই পরিবারের পাঁচ জনের কথা আমি জানি। দুই ভাই, এক বোন, মা ও বাবা। এক ভাই লণ্ডনে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকেন।’ তিনি কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘আমি পরিবারের সদস্যদের একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এখন অন্ধকারের মধ্যে । এ দেশে পুলিশ যতক্ষণ উদ্ধার করে নিহত বলবে না, ততক্ষণ নিখোঁজ। পুলিশ এলাকাটাতে কাউকে যেতে দিচ্ছে না ।’

মুনজের আরও বলেন, ‘আমরা লন্ডন সময় গতকাল পাঁচটার দিকে জানতে পারি, এই পরিবারের কথা। পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি শোকাহত। যেখানে সম্প্রতি বাংলাদেশি তিনজন এমপি পদে পুনঃনির্বাচিত হলেন। এই লন্ডন থেকেই ক্রিকেটের খবর গেছে, এরমধ্যে লন্ডনের মতো শহরে পুড়ে মরছে। বাংলাদেশে হলে বলতাম নিরাপত্তার সমস্যা। লন্ডনের মতো শহরে এটা বেদনাদায়ক ঘটনা।’ আগুনের ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাজার খানেক লোকের আবাস গ্রিনফিন টাওয়ার নামের ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অন্তত ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুনজের আহমেদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় জানান, ‘লন্ডনে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনটি থেকে জীবিত আর কাউকে উদ্ধারের আশা নেই।’

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top