রাত ৮:৫৫, সোমবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / ভোক্তার স্বার্থ রক্ষিত হোক
ভোক্তার স্বার্থ রক্ষিত হোক
মে ১৫, ২০১৭

কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই, আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটির একই দশা, কাগজে কলমে, আইনটি বলবত আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। ফলে কোনো কাজে আসে না এসব আইন। একদিকে বাজারে নিত্য পণ্যের দাম আকাশ ছুঁতে চাইছে, অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক। যান্ত্রিক ওজনযন্ত্রেও ত্রুটি বা কারসাজির কারণে ওজনে পণ্য কম পাচ্ছেন ক্রেতারা।


 বহু খাদ্য পণ্য আছে, যার মোড়কে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও ঠিকানা নেই। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন না অনেক বিক্রেতা নানা অজুহাতে। দাম লেখা না থাকায় খোলা পণ্য বা হরেক দামে বিকোয়। গরুর মাংস বলে গছিয়ে দেয়া হচ্ছে মহিষের মাংস। ভেড়ার মাংস চলছে খাসির মাংস হিসেবে।

 

ফলমূল সহ শাক-সব্জি, মশলাপাতি সবখানেই রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। ফল দ্রুত পাকাতে এবং রঙিন করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে, শাক-সব্জি, ফল তাজা রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। বাজার থেকে কিনে আনা ফল মাসাধিককাল ফ্রিজের বাইরে থাকলেও নষ্ট হচ্ছে না।


 সঙ্গে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করা তো আছেই। যানবাহনে সিটিং ও ননস্টপ সার্ভিসের ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নৈমিত্তিক ঘটনা। ক্রেতা ও ভোক্তাগণ যে ন্যায্য মূল্যে সঠিক পণ্য ও সেবাটি পাবেন, সে জন্য ব্যবসায়ে সততা একান্ত কাম্য। আর রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ আইন বিধি-বিধান দ্বারা একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা এবং নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতি মুনাফাবাজি কঠোরভাবে দমন করে ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষা করা।

 

আমরা চাই ভোক্তা অধিকার আইনের বাস্তবায়ন। যে আইন-কানুন রয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ হোক। প্রয়োজনে আইনটি আরো যুগোপযোগী করা হোক। আর ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার সংগঠনগুলোকে বিদেশি তহবিল নির্ভর এনজিওর ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে প্রকৃত সামাজিক আন্দোলন হিসেবে দাঁড়াতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top