বিকাল ৪:৩১, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / ভোক্তার আস্থায় ডিজিটাল বাংলাদেশ
ভোক্তার আস্থায় ডিজিটাল বাংলাদেশ
মার্চ ১৪, ২০১৭

আতাউর রহমান মিটন :আজ ১৫ মার্চ, বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস। বাংলাদেশে এবার দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে, “ভোক্তার আস্থায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ি”। একজন ক্রেতার মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এই দিবসের অন্যতম লক্ষ্য। জাতীয় পর্যায়ে ভোক্তা আন্দোলনকে গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে।

‘ভোক্তা অধিকার দিবস’টি খুব পুরোনো নয়। উইকিপিডিয়া’র বর্ণনানুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ১৫ মার্চ  মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও ভোক্তা অধিকার আন্দোলনে সোচ্চার কর্মী আনোয়ার ফজল বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালনের আহ্বান জানান। ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করাই ছিল দিবসের উদ্দেশ্য। এর আগে ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন।

 নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার – ভোক্তাদের এ চারটি মৌলিক অধিকার স¤পর্কে তিনি তাঁর বক্তৃতায় আলোকপাত করেন যা পরবর্তীতে ‘ভোক্তা অধিকার আইন’ নামে পরিচিতি পায়।

১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের মাধ্যমে জাতিসংঘ ভোক্তা অধিকার রক্ষার নীতিমালায় কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরো আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল এ সকল অধিকারকে সনদে অন্তর্ভূক্ত করে কেনেডি’র ভাষণের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করে আসছে।

কেনেডি সেদিন তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বলেছিলেন, “সংজ্ঞা অনুযায়ী আমরা সকলেই ভোক্তা। অর্থনীতিতে ভোক্তাগণই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী যারা একই সাথে প্রভাবক এবং প্রভাবিত। সকল ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশ সংঘটিত হয় ভোক্তাদের দ্বারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ভোক্তারা অসংগঠিত এবং প্রায়শঃই তাঁদের কথায় কেউ পাত্তা দেয় না। .. ভোক্তাদের পছন্দ এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অতি উন্নত বিজ্ঞাপনের দ্বারা। সাধারণভাবে একজন ভোক্তা জানেন না যে তিনি যে ওষুধ কেনেন তা কতখানি নিরাপদ, মানসম্পন্ন এবং কার্যকর। ভোক্তা জানে না যে খাবার সে খাচ্ছে তা কতখানি পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত।
 
প্রায় ৫৩ বছর আগে কেনেডি ভোক্তাদের স্বার্থ চিন্তায় যে কথাগুলো বলেছিলেন তা আজও সমানভাবে অর্থবহ। বাংলাদেশে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ নামে একটি আইন হয়েছে। গঠিত হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আইনের আওতায় সারাদেশে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠিত হওয়ার কথা।

এই আইনে কৃত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক থেকে তিন বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার-তিন লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। আইনে উল্লেখিত কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন তবে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দন্ড দেয়া হয়েছে তার দ্বিগুণ দন্ডে দন্ডিত হবেন। বলাই বাহুল্য যে, আইন থাকলেও ভোক্তারা আজও তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ। আবার যারা আইন সম্পর্কে জানেন, তারাও এই আইনের উপর আস্থা রাখতে পারেন না।
 
সরকার ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা সবাই জানি, ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা’র অঙ্গীকার করেছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় এখনও প্রশাসনের কার্যক্রম চলছে। সরকারের ভেতরে, বিশেষ করে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই রূপকল্প বাস্তবায়নে যেভাবে কাজ করছে সেই তুলনায় জনগণের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে আস্থা গড়ে ওঠেনি। সরকারী নেতাদের মতে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সুশাসন থাকবে, সরকারের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা-স্বচ্ছতা থাকবে, দুর্নীতি কমে যাবে’। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তির শক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করাটাই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হয়েছে কি? অনেকেই মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার এমনভাবে প্রসার ঘটানো, যাতে আগে যেসব সেবার জন্য নানা জায়গায় ছুটতে হতো তার আর দরকার হবে না – ঘরে বসেই ক¤িপউটারে এবং মোবাইল ফোনে তা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এটা হবে এমন এক ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা যার ফলে হাতের নাগালে, খুব দ্রুততার সাথে, কম খরচে এবং স্বচ্ছতার সাথে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে, ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দিয়ে সময় বিভ্রাট সৃষ্টি করা নয়।

সন্দেহ নেই যে, বিগত ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু, সারাদেশে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ক ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ চালু করাসহ তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষাকে সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়ায় আমাদের দেশে একটা গুণগত পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। তবে সরকারের এই অগ্রগতি বা উদ্যোগে ‘জনগণের আস্থা’ কতখানি বিরাজমান তা নিয়ে বিস্তর ভিন্নমত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আমাদের দেশে ক¤িপউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট কাম্য জনসংখ্যার তুলনায় কম।

 যদিও মোবাইল ফোন ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে আশাতীত। সরকারের নীতি নির্ধারকগণ অবশ্য মোবাইল ফোন এর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সেইসাথে মোবাইল ফোনভিত্তিক সেবা  (যেমন টাকা আদান-প্রদান, বিল প্রদান, ইত্যাদি) প্রদানের সুবিধাগুলোকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তাঁরা মনে করেন, সরকারের সেবাগুলোকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুততা ও জবাবদিহিতার সাথে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল পথে এগিয়ে চলার চেষ্টা দেখে আর দশজনের মত আমিও খুবই আপ্লুত এবং গর্বিত। কিন্তু একই সাথে আমাদের অনেক হতাশাও আছে। আমার মনে হয় সরকারের ওয়েবসাইটগুলিতে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য পাওয়াটা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ বা র‌্যাব এর মোবাইল অ্যাপগুলো সত্যিকারের সেবা দিতে সক্ষম হলে দেশে অপরাধ অনেক কমে যাবে। ভূমি মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এর মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলির ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন হলে মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে। জমি রেজিষ্ট্রি অফিস, থানা এবং আদালতগুলোতে মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এই সেবা কতখানি পাওয়া যায় তা ভুক্তভোগীরা ভালমতই জানেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অনেক সেবাই অনলাইনে পাওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবে সেগুলো পুরোপুরি পাওয়া যায় না।

 এটা সত্য যে, দাপ্তরিক সকল বিষয়গুলিকে পুরোপুরি অনলাইনে আনা সম্ভব হলে দুর্নীতি প্রায় বন্ধ করে ফেলা সম্ভব হবে। যদিও স্বার্থান্বেষী মহল কারিগরী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে ব্লক বা অকেজো করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এরকম অনেক অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমে প্রায়ই প্রকাশ পায়। যেমন ধরুন কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাবার ভিসা আবেদনের ‘ই-টোকেন’ অনলাইনে নিতে হতো কিন্তু সেটা একটি মহল ডিজিটালি নিজেদের করায়ত্ব করে একচেটিয়া ব্যবসা করছিল। ফলে জনগণ ডিজিটাল প্রতারণা সম্মুখীন হচ্ছিল। সম্প্রতি অবশ্য ই-টোকেন এর এই ব্যবস্থাটা বাতিল করা হয়েছে। জনগণের আস্থায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইলে সরকারকে আরও গতিশীল হতে হবে।

 মানুষ এখনও জানে না অনলাইনে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। আবার কম্পিউটার পরিচালনা বা ডিজিটাল সক্ষমতা না থাকায় জনগণের পক্ষেও সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাষা আরেকটি বড় বাধা। সকল কনটেন্ট যত দ্রুত সম্ভব বাংলায় রূপান্তর করাটা খুবই জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় বড় কথা বললে হবে না। যেমন সরকারের উচিত একটি চাকুরী বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল চালু করা এবং সেখানে সকল চাকুরী প্রার্থীদের নাম নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। এর ফলে চাকুরী দাতাগণ সহজেই তাদের কাঙ্খিত প্রার্থীকে খুঁজে নিতে পারবেন। ঐ সাইটে চাকুরী দাতাদের জন্য বিনামূলে বা স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দেয়ার সুযোগ রাখা হলে কোম্পানী বা দপ্তরগুলো তাদের বিজ্ঞাপন উক্ত সাইটে প্রকাশ করতে উৎসাহী হবেন। এর ফলে চাকুরী দাতা এবং প্রার্থীদের মথ্যে সহজেই ডিজিটাল সেতুবন্ধন গড়ে উঠতে পারে। দূর হতে পারে বহু ভোগান্তি।  

প্রত্যেক মানুষই একেকজন ভোক্তা। বাজারের সাথে ভোক্তার সম্পর্ক নিবিড়। গত রোববার ঢাকায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের কম হলে সরকারী কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট দেয়া হবে না’। মাননীয় মন্ত্রীর এই কথায় অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে কারণ বাজারে গেলে বোঝা যায় জিনিসপত্রের দামের কি অবস্থা! সীমিত আয়ের মানুষেরা কষ্ট করে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াচ্ছেন। এই মানুষেরা এখন আর ‘ভোক্তা অধিকার’ নিয়ে ভাবতে পারছেন না। তাদের কাছে বড় বিষয় টিকে থাকার সংগ্রাম।  সরকারকে বাজার ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনে গুরুত্ব দিতে হবে। পণ্যের গুণগত মান এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পারলে সেটা সরকারের সাফল্য হিসেবে জনগণ বিবেচনা করবে, অন্যথায় নয়।


ভোক্তা অধিকার দিবসে আমরা ভোক্তারা সরকারের কাছে দায়বদ্ধতা দাবী করছি। নিয়ন্ত্রণহীন সিন্ডিকেট এর কবল থেকে বাজার এবং ভোক্তাদের স্বার্থকে মুক্ত করতে হবে। মানুষের আয় এবং জীবনমানের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড়। সেজন্য সকলের যথাযথ আয় নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের জনগণ ভিক্ষা নয়, অনুদান নয়, বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের নিশ্চয়তা চায়। দুর্নীতিবাজ ও কালোবাজারীদের দৌরাত্ম থেকে মুক্তি পেতে ডিজিটাল স্বচ্ছতা চায়। জনগণ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ চায় কিন্তু তার আগে চায় নিজেদের জীবনকে মধ্যম মানে উন্নীত করার নিশ্চয়তা।

 ছেলেমেয়েদের জন্য একটি কম্পিউটার অথবা নিদেনপক্ষে একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার সুপ্ত ইচ্ছা অভিভাবকদের হৃদয়ে কিন্তু সক্ষমতা কোথায়? প্রত্যেক নাগরিকই একেকজন ভোক্তা। সরকারকে তাই সকলের কথা ভেবে সকলের স্বার্থেই নীতি প্রণয়ন করতে হবে। জনগণের আস্থা সৃষ্টির জন্য সরকারকে তার কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এর লক্ষ্য বাস্তবায়িত হোক, বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াক এটাই আমাদের কামনা।
 লেখক: সংগঠক-প্রাবন্ধিক
সরঃড়হ২০২১@মসধরষ.পড়স
০১৭১১৫২৬৯৭৯

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top