বিকাল ৫:১১, মঙ্গলবার, ৩০শে মে, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে
মে ১৯, ২০১৭

বিশ্বে পানির উৎস প্রতিদিনই কমছে। পানি সংকটের মুখে পড়ছে মানবজাতি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলছে, পৃথিবীর ভূ-গর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

ভূ-গর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলার জন্য ৫০পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে।


ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে গভীর নলকূপ দ্বারা পানি উত্তোলনের ফলে মূলত এই দুষণের উৎপত্তি হয়। নাসার মতে পৃথিবীর ৩৭টি বৃহৎ  পানির স্তরের মধ্যে ২১টির পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ স্তরগুলোর অবস্থান ভারত ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সীমানার মধ্যে। বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েকগুণ আগেও খুবই সত্য ছিল। এমনকি দশক ধরে আমরা যে বোতলজাত পানি কিনে পান করি, এ বিষয়টিও সে সময় একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল।


 কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন তা বাস্তবতা। পানির অভাব এখনও এদেশে তেমন নেই, কথা সত্য। তবে সেই বিপুল পানির সামান্যই পানযোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-ঝিল, এসবের পানি বেশির ভাগই দুষিত। বাংলাদেশ যে পানির সংকটের সম্মুখিন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী। নদী দূষণ অবস্থাকে ভয়াবহভাবে বিপজ্জনক করে তুলছে। অস্তিত্বের স্বার্থে উজানে পানি প্রত্যাহার রোধে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top