সকাল ১০:৪৯, শুক্রবার, ২৮শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ Today Lead / ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ গ্রেফতার ১১
ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ গ্রেফতার ১১
মে ১৯, ২০১৭

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রীর ছেলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাবনা-৪ আসনের এমপি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সাথে তার জামাতা ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের অনেকদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। সেই দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের মাঝেও।

 দেখা দিয়েছে গ্রুপিং। যার ফলে মাঝে মধ্যেই ঈশ্বরদী পৌর সদরে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় ঘটছে। তারই জের ধরে বৃহস্পতিবার উপজেলা যুবলীগের    সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের সমর্থক এক কর্মীকে মারধর করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়ের বিশ্বাসের সমর্থিত কর্মীরা। এরই প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূমিমন্ত্রী সমর্থিত যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঈশ্বরদী পৌর সদরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় মন্ত্রীর জামাতা আবুল কালাম আজাদের মিষ্টির দোকানসহ বেশ কিছু সাধারণ ব্যবসায়ীর দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। একই সময়ে হামলাকারীরা আবুল কালাম আজাদের সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাদের মারধরে ছাত্রলীগ সভাপতির মা হাজেরা বেগম আহত হন।


ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই জানান, হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার বিশ্বাস বাদী হয়ে মন্ত্রীপুত্র শরীফসহ ৩২ জন নামীয় ও আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরীফ তমালকে এক নং ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারকে দুই নং আসামি করা হয়।ওসি জানান, রাতেই অভিযানে নামে ঈশ্বরদী ও পাবনা পুলিশের একটি যৌথ টিম। তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত অভিযোগে ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া বাকি অন্য ১০ জন হলে- শহরের মধ্য অরণকোলার মাসুম আহমেদ, ইস্তা গ্রামের সাইফুদ্দিন, শেরশাহ রোডের সবিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, দুই ভাই মাহবুব হাসান ও প্রিন্স ইসলাম, জাফর ইকবাল, পূর্বটেংরীর রনি ইসলাম, নূর মহলার জাহাঙ্গীর হোসেন ও শহীদ আমিনপাড়ার মোহাম্মদ বিন সালামের ছেলে ফাহাদ। গ্রেফতারের পর এই ১১ জনকে ঈশ্বরদী থেকে পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়।পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুরে আসামিদের পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক আবু বাছেত ভুলু আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top