সকাল ৯:৩৮, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / ভুলে ভরা পাঠ্যবই কাম্য নয়
ভুলে ভরা পাঠ্যবই কাম্য নয়
January 9th, 2017

 

পাঠ্য বইয়ের নানা ভুল নিয়ে তুলকালামের মধ্যে ভুলের কারণ খুঁজতে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে জাতীয় শিক্ষা ক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র বলেছেন, কমিটি পাঠ্য বইয়ের ভুলগুলো চিহ্নিত করবে, একই সঙ্গে ভুলের কারণও খুঁজে বের করবে।

 পাঠ্য বইয়ের সব ভুলত্রুটি ঠিক করে সংশোধনী শিট শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বছরের প্রথম দিনে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিঃসন্দেহে সরকারের সাফল্য বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু সে সাফল্য অনেকাংশেই নষ্ট করে দিয়েছে অসংখ্য ভুলে ভরা বই প্রকাশের ঘটনা। এবার বই অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বদলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যমে এসব নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

 অভিভাবকরা বলছেন, পাঠ্য পুস্তকে ভুলের ছড়াছড়িই শুধু নয়, অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর নানা বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদ, সমাজবিদসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন আনার এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

 শিশুদের পাঠ্য বইয়ে ভুলভ্রান্তি ও অপ্রাসঙ্গিক ছবি জুড়ে দিয়ে বই প্রকাশের দায়িত্বে নিয়োজিতরা শুধু নিজেদের অযোগ্যতারই প্রমাণ রাখেননি, সরকারের সুনামের জন্য যে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন তা এক কথায় দুর্ভাগ্যজনক। শিশুরা বড় হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে, কাজের মাধ্যমে জাতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী স্বার্থে তাদের আমরা নীতির ক্রীড়নক বানাতে পারি না।

 বিষয়টি দুঃখজনক উদ্বেগজনকও। শিশুদের রাজনীতির খুঁটি বানানো নয়। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বললেন, তারা বইগুলোতে ভুল-ত্রুটি  সংশোধন করবে। কিন্তু কোটি কোটি বইয়ের ভুল ভ্রান্তি সংশোধনের সুযোগ কীভাবে পাওয়া যাবে, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অভিভাবকরা বলছেন, ভুল বইয়ের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় তবে তারা সারা জীবন ভুল শিখবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। মহল বিশেষ নয়, সার্বজনীন মতামতের ভিত্তিতে শিশুদের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top