রাত ৮:০২, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ নির্বাচিত / ভিশন-২০৩০ তুলে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেবে বিএনপি
রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ভিশন-২০৩০ তুলে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেবে বিএনপি
মে ১৩, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি রূপরেখা দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, যেটা ভিশন-২০৩০ নামে পরিচিত। এই রূপকল্প জনগণের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে সভা-সেমিনার ও আলোচনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে দলটি। এ লক্ষ্যে একাধিক ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি করবে বিএনপি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক মতামত গ্রহণ করে তা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে দলটি।

এদিকে, বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই রূপকল্পকে অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, এটি অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ওই রূপকল্পকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপানো রঙিন বেলুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ভিশন উপস্থাপন করাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এই ভিশন জনগণের কাছে তুলে ধরবো বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে একাধিক ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরা করা হবে। এরপর বিষয়ভিত্তিক মতামত গ্রহণ করে তা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে পর্যালোচনা করা হবে। দেশের অর্থনীতির জন্য অর্থনীতিবিদদের, গণমাধ্যমের জন্য সিনিয়র মিডিয়া ব্যক্তিদের, তথ্য-প্রযুক্তির জন্য বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ এবং শিক্ষার জন্য শিক্ষবিদদের কাছ থেকে মতামত নেয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার ঢাকায় শিক্ষা বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, রাজধানীর লেডিস ক্লাবে দুই অধিবেশনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপির ওই রূপকল্পকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপানো রঙিন বেলুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। এটা জাতির সাথে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে দলের জন্য লক্ষ্য ঠিক করে খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ উপস্থাপনকে দেশের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিএনপির ভিশন-২০৩০ ‘পুরোটাই উদ্ভাবনের ফসল’ বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

বিএনপির রূপকল্প প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, খালেদা জিয়া ঘোড়ার আগে গাড়ি ‍জুড়ে দিয়েছেন। কারণ, তার কথাগুলো হয়েছে খাপছাড়া, কোনো রোডম্যাপ নেই। তার এই বক্তব্য মোটেই সময়োপযোগী হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উচিত ছিল, বিএনপি বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা- তা নিশ্চিত করা। তবে খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে অবৈতনিক শিক্ষা, বেকার সমস্যার সমাধান, মাথাপিছু আয় বাড়ানোসহ কিছু ভালো বিষয়ও দেখছেন জাতীয় পার্টির এই নেতা।

খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০-কে ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছেন। এটা গণতান্ত্রিক চল কথা কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্যের ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রস্তাব দেননি, এটা দেওয়া উচিত ছিল।

ভিশন-২০৩০ সম্পর্কে ২০ দলীয় জোট শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে বেগম খালেদা জিয়া পরিবর্তিত সমাজের যে চাহিদা, বিশেষ করে নাগরিকদের যে চাহিদা সেটার প্রতি সাড়া দিয়েছেন। কারণ, আজকের নাগরিক জানতে ও বুঝতে চায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশবাসীর জন্য কী কী করবেন? নাগরিকদের এই আকাক্সক্ষার পক্ষে উনি যে সাড়া দিয়েছেন, এটাই হচ্ছে রাজনীতিতে গুণগত অর্জন-যা আমি পজিটিভলি নিচ্ছি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বড় দুটো দল (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) দুটো ভিশন হাজির করেছে, দুটোই ধাপ্পা। তারা মানুষকে চটকদারি কথার দ্বারা একটা ভিশন হাজির করছে। এই ভিশনের মধ্যে গরিব মানুষের কোনো কথা নেই।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ উপস্থাপনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দলটির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি একটি ভাল দলিল, তবে অসম্পূর্ণ। এটি আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল। এখানে সুশাসনের কথা বলা হয়েছে। তবে ঢাকা শহরে বসে কখনো সুশাসন হবে না। সে বিষয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) কোনো ধারণা দেন নাই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করলেও সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। দেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু র‍্যাবকে বিলুপ্ত করবেন কিনা, সেটা বলেননি। একইসঙ্গে ক্ষমতায় গেলে এই ধরণের কোনো বাহিনীও যে আর গঠন করা হবে না, সে বিষয়েও কোনো বক্তব্য নেই।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এই ভিশনে ভালো কথা রয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন করবে কে? এর জন্য কি দল প্রস্তুত আছে?

খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ কে যুগান্তকারী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, এই দলিল বাস্তবায়নে জনমত তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জাতীয় ঐক্য।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top