রাত ১:১৭, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ শিরোনাম / ভালো নেই তিস্তাপাড়ের জেলেরা
ভালো নেই তিস্তাপাড়ের জেলেরা
মার্চ ৩, ২০১৭

মিল্লাদুর রহমান মামুন, নীলফামারী : একসময় তিস্তায় মাছ শিকার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকলেও এখন ভালো নেই তিস্তা পাড়ের জেলেরা। নদীতে পানি না থাকায় মাছ ধরতে না পারায় বেকার দিন কাটাচ্ছে এখানকার জেলেরা। সারাদিন জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যায় তা বাজারে বিক্রি করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি আয় হয় না তাদের। অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় মাছ না পেলেও তবুও আশায় আশায় জাল ফেলে বসে থাকেন তারা।


কখনও সর্বগ্রাসী আবার কখনও সর্বনাশা বলা হয় তিস্তা নদীকে। উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী। বর্ষাকালে পানির তোড়ে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও একেবারে উল্টো চিত্র শুষ্ক মৌসুমে। এখন দেখে বোঝার  উপায় নেই যে বর্ষাকালে এই তিস্তা এত খরস্রোতা থাকে। বর্তমানে ডিমলার ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টেই পানি নেই তিস্তার। ধূ ধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে ব্যারেজের ভাটি এলাকা। সরেজমিনে ব্যারেজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, অনেকগুলো নৌকা বালুতে নোঙর করা। এসব নৌকার ওপর বসে অলস সময় পার করছেন মোখলেছার, হাফিজুল, সুখ চরণ ও আবুল হোসেনসহ কয়েকজন মাঝি। সেখানেই কথা      হলো তাদের সাথে। জানতে চাওয়া হয় এখন কেমন আছেন তারা। প্রশ্ন শুনেই মলিন মুখে জানালেন ভালো নেই তারা।

 কারণ কি জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, নদীতে পানি নেই, তাই মাছ ধরতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন তারা। তিস্তা তীরবর্তী ডালিয়া বাইশপুকুর গ্রামের মাঝি মোখলেছার রহমান বলেন, নৌকা, জাল তৈরি করতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে আমাদের মাছ ধরতে হয়। কিন্তু নদীতে পানি নেই আমরা মাছ ধরব কোথায়? ১০ জন মিলে একটি নৌকা দিয়ে সারাদিন জাল ফেলে দুইশ’ টাকারও মাছ পাওয়া যায় না। বর্তমান বাজারে এই টাকা দিয়ে আমরা খুব কষ্টে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের মাঝি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি আট বছর থেকে তিস্তা নদীতে মাছ ধরি।

 একটা সময় ছিল সারাদিন ১০ থেকে ১৫ কেজির ওপরে মাছ পেতাম। সেই মাছ বাজারে বেচে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই দিন কাটাতাম। আর এখন নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। এখানকার জেলেরা আমরা কেউ ভালো নেই। তিস্তায় পানি না থাকার পরও মিছে আশায় সামান্য পানিতে জাল ফেলে বসে থাকেন এখানকার মাঝিরা। তারা জানিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় তিস্তা নদীতে মাছ ধরে আসছেন তারা। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানেন না তারা। তাই ইেচ্ছ থাকলেও অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না তারা।


কথা হয় মাঝি আবুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, সারাদিন জাল ফেলে একশ’ থেকে দুইশ’ টাকার মাছ পাওয়া কঠিন। তারপরও আশায় থাকি যদি বেশি মাছ পাই। যদিও এই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না তবুও আমরা নিরুপায়। কারণ আমরা তো আর অন্য কোনো কাজ করতে পারি না। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে মাছ ধরা দেখেছি, মাছ ধরা শিখেছি। অন্য কোনো কিছু করতে পারলে তো আর এই পেশায় থাকতাম না। নদীতে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করলেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রেকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানও। তিনি জানান, নদীতে এখন পানির প্রবাহ খুবই কম। নদীতে কিছু পানি দিয়ে বাকি পানি আমরা ব্যারেজের গেইট বন্ধ রেখে সেচের জন্য ক্যানেলে ছেড়ে দিচ্ছি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top