রাত ৯:৩১, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / ভারত সফর সম্পর্ক মজবুত করেছে : প্রধানমন্ত্রী
* বেঁচে থাকতে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি নয় * পাংশায় গঙ্গা ব্যারেজ হচ্ছে না
ভারত সফর সম্পর্ক মজবুত করেছে : প্রধানমন্ত্রী
এপ্রিল ১১, ২০১৭

ভারত থেকে তৃপ্তি নিয়ে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তার এবারের সফর ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে। এই সফর সম্পর্ক মজবুত করেছে। ভারতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে  মঙ্গলবার বিকালে গনভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফরে আমি সম্পূর্ণ তৃপ্ত, ফলপ্রসূ হয়েছে। সম্মানের দিক থেকে আমরা সমান-সমান, এটা তৃপ্তির। এখানে হতাশার কিছু নেই। এই সফর সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর জমানায় দ্বিপক্ষীয় প্রথম সফরে শুক্রবার ভারতে যান শেখ হাসিনা, সোমবার ফেরেন তিনি। তার সফরে চুক্তি-সমঝোতা স্মারকসহ ৩৬টি দলিল সই হয়েছে।

তিস্তা চুক্তির জট না খোলা, সীমান্তে হত্যা বন্ধ নিয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায় এই সফরে বাংলাদেশের আশা পূরণ হয়নি বলে বিএনপির মন্তব্য। পাশপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারককে সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্নের সঙ্গে তুলনা করেছে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চীনের সঙ্গে বিএনপি আমলে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের বিষয়টি তুলে ধরে আবারও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে তিনি দেশের স্বার্থহানি ঘটিয়ে কিছু কখনও করবেন না। এই সফরে নয়া দিল্লির কাছে শেখ হাসিনার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রটোকল ভেঙে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ছিলেন শেখ হাসিনা, যাও ভারতে সফরে যাওয়া কোনো সরকার প্রধানের জন্য বিরল ঘটনা। শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো কিছু চাইতে যাইনি, বন্ধুত্ব চাইতে গিয়েছিলাম, বন্ধুত্ব পেয়েছি। এই সফরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের সম্মাননা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতির জনকের নামে ভারতের রাজধানীতে একটি সড়ক উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। এই সফরে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক এই সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘বিশেষ তাৎপর্য’ বহন করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বিবাদের মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করি। ভারত থেকে সম্মান আদায় করে ফিরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সমীক্ষা করে রাজবাড়ীর পাংশায় গঙ্গা ব্যারেজের যে নকশা তৈরি করেছে, তা নাকচ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর বদলে উজানে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ‘রিজার্ভার’ তৈরি করে শুষ্ক মওসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এবারের সফরে ভারতের সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি, তিস্তার পানিবণ্টনের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঙ্গা ব্যারেজ নামে যে ব্যারেজের সমীক্ষা ও যে ডিজাইনইনটা তৈরি করেছে সেটা সম্পূর্ণ ভুল। এটা আমি নাকচ করে দিয়েছি। কারণ এটা আমাদর জন্য আরও আত্মঘাতী হবে, ওই তিস্তা ব্যারেজের মত আত্মঘাতী হবে। তিনি বলেন, পাংশায় আমার মূল নদীর স্রোতের মধ্যে একখানা ব্যারেজ দিয়ে তারপর পানি পানি করে কানতে হবে আমাদের। এটা আমরা করতে রাজি না। সংবাদ সম্মেলনে প্রধামন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে যখন গঙ্গার পানি চুক্তি করি, তখনই আমি বলেছিলাম, আমরা একটা ব্যারেজ করব, গঙ্গা ব্যারেজ, সেই ব্যারেজটা হবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে এবং যৌথভাবে। এমনভাবে এটা তৈরি করা হবে যেন দুটি দেশের মানুষ এটা ব্যবহার করতে পারে। আর আমাদের পানিসম্পদ যেটা পাংশায় করেছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল একটা পরিকল্পনা। ওটা কখনো বাস্তবায়ন করা ঠিক হবে না আমাদের জন্য। এবার মমতার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি জায়গা দেখেন, আমরাও জায়গা দেখি, আমাদের শাখা নদী এবং দুই দেশ মিলে, অর্থাৎ.. ব্যারেজ মানে ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা। যেন বর্ষাকালে পানিটা আমরা ধারণ করে রাখতে পারি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিটা যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি। সেইভাবে একটা জায়গা খুঁজে সেইখানে করাটাই সব থেকে যুক্তিযুক্ত। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যারা ওই পাংশায় ব্যারেজের নকশা করেছেন, তাদের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, কিছু মানুষের চিন্তা থাকে, একটা বানানো গেলেই টাকা আসবে পয়সা আসবে, কমিশন আসবে। গঙ্গা ব্যারেজের ফাইলে নোট লিখে ফেরত দিয়ে দিয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নকশা তার ‘পছন্দ হয়নি’। ব্যারেজ বা রিজার্ভার যাই হোক, তা ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে করতে হবে এবং খরচও যৌথভাবে হবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।   

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা চীনের সঙ্গে বিএনপি আমলে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের বিষয়টি তুলে ধরে আবারও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে তিনি দেশের স্বার্থহানি ঘটিয়ে কিছু কখনও করবেন না। এই সফরে নয়া দিল্লির কাছে শেখ হাসিনার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রটোকল ভেঙে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ছিলেন শেখ হাসিনা, যাও ভারতে সফরে যাওয়া কোনো সরকার প্রধানের জন্য বিরল ঘটনা। শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো কিছু চাইতে যাইনি, বন্ধুত্ব চাইতে গিয়েছিলাম, বন্ধুত্ব পেয়েছি। এই সফরে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক এই সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘বিশেষ তাৎপর্য’ বহন করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বিবাদের মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করি। ভারত থেকে সম্মান আদায় করে ফিরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top