সকাল ১০:৩৪, বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / ভারতের নায়ক ‘ওয়াইন’ ধোনি
ভারতের নায়ক ‘ওয়াইন’ ধোনি
জুলাই ১, ২০১৭

বয়সের সঙ্গে কিভাবে বাড়ছে ব্যাটের ধার? পুরস্কার বিতরণীতে সঞ্চালকের প্রশ্নে হাসলেন ম্যাচ-সেরা মহেন্দ্র সিং ধোনি, “ওয়াইনের মতো!” সময়ের সঙ্গে যেমন দামি হয়ে উঠে ওয়াইন, তেমনি ৩৬ ছুঁইছুঁই ধোনিও ভারতের জন্য মহামূল্য। সেটি দেখিয়ে দিলেন আরও একবার।

ব্যাটিং দূরুহ উইকেটে আরেকটি ‘ফিনিশিং মাস্টারক্লাস’ মেলে ধরলেন ধোনি। গড়ে দিলেন জয়ের ভিত। বাকি কাজ সারলেন স্পিনাররা। তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৩ রানে উড়িয়ে দিল ভারত।

অ্যান্টিগায় শুক্রবার ভারতের ২৫১ রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ করতে পারে মাত্র ১৫৮। গুটিয়ে যায় ৭১ বল আগেই।

৫ ম্যাচ সিরিজের তিনটি শেষে ভারত এগিয়ে ২-০তে। প্রথম ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।

আগের দিনের বৃষ্টিতে শুক্রবারের ম্যাচও শুরু হয়েছিল ৪৫ মিনিট দেরিতে। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের উইকেট খানিকটা আর্দ্র ও স্যাঁতস্যাঁতে দেখে টস জিতে জেসন হোল্ডার নিলেন বোলিং।

উইন্ডিজ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল। উইকেটে গতি ছিল দুরকম, বাউন্স অসমান। নতুন বলে মিগুয়েল কামিন্স ও হোল্ডার বেশ চেপে ধরেন ভারতকে।

টানা ৮ ইনিংস পর ওয়ানডেতে দু অঙ্কের নিচে আউট হন শিখর ধাওয়ান। বিরাট কোহলিকে বাউন্সারে বারবার কাঁপিয়ে ও নাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বাউন্সারেই ফেরান হোল্ডার।

অজিঙ্কা রাহানে ও যুবরাজ সিং লড়াই করে টেনে নেন দলকে। রানের গতি ছিল মন্থর। ১৫ ওভার শেষে রান ছিল ৫২। মাঝে দুই স্পিনার অ্যাশলি নার্স ও দেবেন্দ্র বিশুও করেছেন কিপটে বোলিং।

জুটিতে যখন রান বাড়ানোর সময়, তখন ভাঙন। ৫৫ বলে ৩৯ রান করা যুবরাজকে ফেরালেন লেগ স্পিনার বিশু। ৬৬ রানের জুটিতে রান এসেছে ওভারপ্রতি চারের নিচে।

রাহানে ও ধোনির জুটির শুরুটায়ও ছিল রান খরা। ধোনির স্ট্রাইক রেট একসময় ছিল চল্লিশের নিচে। তবে অভিজ্ঞ মাথা ছিল বরাবরের মতোই ঠাণ্ডা। আতঙ্কিত না হয়ে আস্তে আস্তে এগিয়েছেন। ২৮ রানে জীবন দিয়ে তাকে সাহায্য করেছেন ক্যারিবিয়ানরাও।

১৬ ওভারে ৭০ রানের জুটি গড়েন রাহানে ও ধোনি। আগের ম্যচের সেঞ্চুরিয়ান রাহানে এদিন অর্ধশতক স্পর্শ করেন ৮৩ বলে। বিশুর দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়েছেন ১১২ বলে ৭২ রানে।

এমনিতে ইনিংসটাকে মন্থর মনে হতে পরে। তবে ম্যাচের বিবেচনায় বেশ কার্যকর। তবে রাহানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল বোধহয় সময়মতো আউট হওয়া! তিনি আউট হওয়ার পর এলেন কেদার যাদব। উঠল ঝড়। পাল্টে গেল খেলার মোড়।

শেষ দিকে যথারীতি রুদ্রমূর্তি ধোনির। রান এলো বানের জলের মতো। নিজের শেষ ২৯ বলে ধোনি করলেন ৫০। সব মিলিয়ে ৭৯ বলে অপরাজিত ৭৮।

ছোট্ট ক্যারিয়ারে এর মধ্যেই ব্যাটিং ঝড়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা কেদার যাদবের ব্যাটে আরেকটি দারণ ইনিংস। ২৬ বলে অপরাজিত ৪০। শেষ ১০ ওভারে ভারত তুলল ১০০। ধোনি ও কেদারের জুটিতেই ৪৬ বলে ৮১!

উইকেট ততক্ষণে অনেকটাই সহজ হয়ে এসেছে। ভারতীয়দের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তবু পেরে উঠল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপে ক্যারিয়ারে হাজার রানও নেই কারও। ভারতীয় স্পিনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং।

পতনের শুরুটা হয়েছিল পেসেই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উমেশ যাদবের গতি ও সুইংয়ে বোল্ড এভিন লুইস। হোপ ভাইদের ফিরিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, দুজনকেই বাউন্সারে। অভিষেকে ১৯ করেছেন বড় ভাই কাইল হোপ। ফর্মে থাকা শাই হোপ ২৪ রানে।

মাঝে একটু লড়াই করেছেন জেসন মোহাম্মদ (৪০), পরের দিকে রোভম্যান পাওয়েল (৩০)। এছাড়া দু অঙ্ক ছুঁতে পারেনি আর কেউ। চায়নাম্যান কুলদিপ যাদব ও অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিনের জবাব ছিল না ক্যারিবিয়ানদের।

দুই স্পিনারই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। গত কিছুদিনে রঙিন পোশাকে বিবর্ণ অশ্বিনের এদিনের বোলিং দলের জন্য এসেছে স্বস্তি হয়ে। বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই উইকেটে ম্যাচের ইতি টেনেছেন কেদার।

এই মাঠেই পরের ম্যাচ রোববার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ২৫১/৪ (রাহানে ৭২, ধাওয়ান ২, কোহলি ১১, যুবরাজ ৩৯, ধোনি ৭৮*, কেদার ৪০*; কামিন্স ২/৫৬, হোল্ডার ১/৫৩, উইলিয়ামস ০/৬৫, নার্স ০/৩৪, বিশু ১/৩৮)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৮.১ ওভারে ১৫৮ (লুইস ২, কাইল হোপ ১৯, শাই হোপ ২৪, চেইস ২, জেসন ৪০, হোল্ডার ৬, পাওয়েল ৩০, নার্স ৬, বিশু ৪*, কামিন্স ১, উইলিয়ামস ১; ভুবনেশ্বর ০/১৯, উমেশ ১/৩২, পান্ডিয়া ২/৩২, কুলদিপ ৩/৪১, অশ্বিন ৩/২৮, কেদার ১/০)।

ফল: ভারত ৯৩ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ভারত ২-০ এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: মহেন্দ্র সিং ধোনি



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top