সকাল ১০:৪৮, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / ভারতের কাছে এবার চার বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা বাংলাদেশের
ভারতের কাছে এবার চার বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা বাংলাদেশের
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭

তৃতীয় এলওসিতে ভারতের কাছে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশায় আছে বাংলাদেশ; এই ঋণে বাস্তবায়নের জন্য  ঠিক করা হয়েছে ১৭টি প্রকল্পও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগেই এই সংক্রান্ত প্রস্তুতি সেরে রাখছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর।

গত ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ভারত সফরের আলোচনা থাকলেও তা হয়নি। এখন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই সফরের দিনক্ষণ ঠিক করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় ওই সফরেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম এলওসিতে ১ বিলিয়ন, দ্বিতীয় এলওসিতে দুই বিলিয়নের পর এবার তৃতীয় এলওসিতে নমনীয় সুদে ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের ঋণ পাওয়ার আশা করছেন তারা। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর আগে দুটি এলওসির মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের জন্য  বাংলাদেশকে ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। কমিটমেন্ট ফি দিতে হচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এবার বাংলাদেশ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য। প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রকল্পের তালিকা করা হয়েছে বলে ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম জানিয়েছেন। তিনি  বলেন, আলোচনা চলছে, দুপক্ষের মধ্যে কিছু প্রকল্পও বাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা ১৭টি প্রকল্পের একটি তালিকা তৈরি করেছি। ওই তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে যাওয়ার আগ পর্য়ন্ত এ তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করা হবে। এখন পর্যন্ত আমরা ৪ বিলিয়ন টার্গেট করে এগোচ্ছি। শেষ পর্যন্ত কত হয়, তা সময় হলে দেখা যাবে। ইআরডি থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে দেখা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রকল্পগুলো বাচাই করা হয়। ১৭ প্রকল্পের মধ্যে ১৬টিতে অর্থের অঙ্ক বসানো হয়েছে। ওই ১৬টির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যে ১৭টি প্রকল্প প্রস্তাবের জন্য বাচাই করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এজন্যা ৯৪ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্য়ন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ৫০ কোটি ১২ লাখ ডলার। গাজীপুর ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (গ্যাস/এলএনজি) বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৪০ কোটি ২৪ লাখ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বগুড়া-ঝাড়খ- ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পিভি পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের জন্য ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। পায়রা বন্দরে বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০ কোটি ডলার। প্রস্তাবিত তালিকায় ভারতের জন্য মিরসরাইয়ে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পটির জন্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ডলার। মিরসরাইয়ে আরও একটি এ হাজার একরের ইপিজেডের প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া মহেশখালী/পায়রায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির একটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ কোটি ডলার।

বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এছাড়াও বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ভাটিয়া পাড়া-ভাঙ্গা সড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ডলার, রামগড়-বারইয়ার হাট চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ৫ কোটি ডলার, কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সরাইল সড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ঈশ্বরদী আইসিডিকে সড়ক ও রেললাইনের সংযোগের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং আশুগঞ্জ জকিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় নির্ধারণ না করা একমাত্র প্রকল্পটি হচ্ছে ‘আপগ্রেডেশন অব এলসিএস টু আইসিপি অন বোথ সাইড’। ইআরডির একজন কর্মকর্তা  বলেন, তালিকায় যে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তা যোগ করলে প্রায় ৪ বিলিয়ন হতে পারে। নতুন এলওসিতে ৪০০ কোটি ডলারই আমাদের টার্গেট।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top