রাত ১১:২২, শনিবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / ব্যাংকের প্রতি আস্থা বাড়াতে হবে
ব্যাংকের প্রতি আস্থা বাড়াতে হবে
January 2nd, 2017

 


চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার হ্যাক করে নেয় শক্তিশালী বিদেশি পাচার চক্র। বাড়ছে না বিনিয়োগ। চলতি বছরে শুরু করে টালমাটাল ব্যাংকিং খাত এখনো পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভুয়া সুইফট বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) ৪টি হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ দেশটির জুয়ার টেবিলে চলে যায়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে চুরির সবচেয়ে বড় এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গত মার্চে তদন্ত কমিটি করা হয়। এ ঘটনা তদন্ত করে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিও।

 এরপর এক ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫২ লাখ ডলার উদ্ধারের পর তা ফেরত পায় বাংলাদেশ। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অসতর্কতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ব্যাংকগুলোর ৫ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে কমেছে সুদের হার। প্রতিনিয়তই বাড়ছে বিনিয়োগ যোগ্য তহবিলের পরিমাণ।

 কিন্তু তা সত্ত্বেও বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোন সাড়া নেই। ফলে দিন দিন ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো অসুবিধা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুশাসনের অভাব ও যথাযথ ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ না থাকায় সুদ হার কমার পরও বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে একদিকে ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জিভূত তারল্য বা অলস টাকা বাড়ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সুদ হার অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও উদ্যোক্তা ঋণ নিচ্ছে না। এর প্রধান কারণ অবকাঠামোগত সমস্যা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :