দুপুর ১২:৫৯, শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বেসামাল চালের বাজার
বেসামাল চালের বাজার
জুন ১৯, ২০১৭

চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। অব্যাহত চালের মূল্য বৃদ্ধি, বিশেষ করে মোটা চালের দর বাড়তে থাকায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে। চালের দাম বাড়তে বাড়তে এ যাবতকালের রেকর্ড বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। একটু ভালো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে স্থান ভেদে ৬০-৬৪ টাকা। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে।

 তাদের আয়ের বেশির ভাগই অর্থ চলে যাচ্ছে চাল কিনতে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এদিকে বোরো মৌসুমে ধানের মিলগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মিল মালিকরা দাবি করছেন, হাওরে বন্যা ও অন্য এলাকায় ব্লাস্ট রোগের কারণে বোরো উৎপাদন কম হওয়ায় ধানের দাম বেড়েছে।

তবে ভূমি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বোরোর উৎপাদন কমবে মাত্র সাড়ে ৭ লাখ টন। এ কারণে চালের বাজারে সংকট হওয়ার কথা নয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯১ হাজার টন। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৯৬ হাজার টন।

 আগে থেকে নজরদারি না থাকায় চালের মজুদ পর্যাপ্ত রাখতে পারেনি সরকার। এ কারণে গত দুই মাস ধরে চালের উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারের সংস্থাগুলো। ফলে চাল কিনতে চড়া দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সরকারের উচিত মোটা চাল সহ সবরকম চালের দাম সহনশীল মাত্রায় রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহ দেশের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সচেষ্ট হওয়া।

 এ কথা সত্য, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠনসহ নানা উপায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রশ্ন হল, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়টি বুঝতেই পারে, তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার ব্যাপারে মিল মালিকদের অনীহা রয়েছে।

এর কারণ হল, বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের যে দাম, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত চালের দাম তার চেয়ে অনেক কম। সরকার এ সংকট মোকাবেলায় চাল আমদানি করার চেষ্টা করছে। অনেক বিলম্ব হলেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। কে বা কারা এই সংকট সৃষ্টি করল সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top