সকাল ১০:৪৩, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিশাল আকারের এডিপি
বিশাল আকারের এডিপি
মে ১৮, ২০১৭

বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ছয় কোটি টাকা। বছর শেষে ব্যয় হয় ৯৯৯ কোটি টাকা। গত চার দশকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এ বৃদ্ধি আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। সরকারের রাজস্ব আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং একই ভাবে বাড়ছে উন্নয়ন কর্মসূচির আকার।

তবে আরেকটি চিত্রও ধারাবাহিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রতি বছর কাট ছাট করতে হয় এবং হ্রাসকৃত বাজেটেও আরেক দফা কাঁচি চলে। আগামী অর্থ বছরের এডিপিতে চলতি বছরের বাস্তবায়নাধীন এডিপির চেয়ে ৩৯ শতাংশ বা ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা যায়, বাজেটে এডিপিই একমাত্র খাত সেটি সাধারণ মানুষের সরাসরি কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।


 বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আট বছরের ব্যবধানে তার পরিমাণ ৭ গুণেরও বেশি স্ফীত হওয়া দেশের আর্থিক সামর্থ্যরেই পরিচায়ক। চার দশকে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হারের চিত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন বছরে সংশোধিত বাজেটের ৮১ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। দুয়েক বছর কেবল ব্যতিক্রম-সংশোধিত বাজেটের চেয়ে চূড়ান্ত ব্যয় কিছু পরিমাণ বেশি হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ ব্যয় করতে না পারার ব্যর্থতার ধারা চলতি অর্থ বছরেও চলছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম ৯ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কারণে সন্তুষ্ট যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।


 কারণ, গত অর্থ বছরের এই নয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৪৪ শতাংশ। আমাদের সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ নানা পর্যায়ে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যায়। উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নানা অজুহাতে বাড়িয়ে নেওয়া এবং সময়মতো কাজ শেষ না হওয়াও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বড় সমস্যা। কিন্তু দুর্ভাগ্য প্রতি বছর সেই একই তাগিদ অর্থ বছর শেষ হতে  চললেও প্রকল্প বাস্তবায়নের হার হতাশাব্যঞ্জক। শুধু বিশাল এডিপি প্রণয়ন নয়, আমরা চাই প্রকল্পগুলোর যথাযথ ও সময়মতো বাস্তবায়ন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top