রাত ৯:২৪, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিপন্ন সুন্দরবন
বিপন্ন সুন্দরবন
এপ্রিল ১৫, ২০১৭

সুন্দরবন সংলগ্ন নদনদীতে লবণাক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবনের পরিবেশ ব্যবস্থায় চিড় ধরছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাদাবনের বিস্তার। জীববৈচিত্র্যেও তার অশুভ প্রভাব পড়ছে। সুন্দরবনের দুনিয়া জুড়ে পরিচিতি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামের ব্যাঘ্রকুলের জন্য।

 

এ সত্যটি উঠে এসেছে কলকাতায় বিশ্ব ব্যাংক আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের গবেষক নীতি নির্ধারকদের এক কর্মশালায়। ওই কর্মশালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসন বাড়ছে।

 সুন্দরবনের মিঠাপানি নির্ভর গাছপালার পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ অনিন্দ্য সুন্দর এই বাদাবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে লবণ-পানির চিংড়ি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনাকাাঙ্খিত ঘটনা। বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার কারণেও।

 

এর ফলে ভূমিক্ষয় বাড়ছে। গাছপালার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের নদনদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরী গাছের বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের সমুদ্র ঘেঁষা এলাকায় সুন্দরীগাছের ঘনত্ব হ্রাস পেয়েছে। এসব এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃণভোজীরা তা মুখে তুলছে না।


 ফলে তারা খাদ্য সংকটের শিকার হচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্বের সঙ্গে তৃণভোজী জন্তুর সম্পর্ক ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। লবণাক্ততার কারণে তৃণভোজী প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন  হয়ে পড়ায় বাঘের অস্তিত্বের ওপরও অপছায়া পড়ছে। বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় লবণাক্ততা সমস্যার ইতি ঘটাতে হবে।

 

বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবনের অস্তিত্বের জন্য এটি এখন প্রধান হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিষ্টি পানি নির্ভর মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিষ্টি পানির মাছ বিপন্ন হয়ে পড়ায় সুন্দর বন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জীবিকা হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। বনকে রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এই বাদাবন রক্ষায় মিষ্টি পানির প্রবাহ কীভাবে সচল রাখা যায় সে বিষয়টি ভাবতে হবে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top