সকাল ১০:২৮, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ
জাতীয় শোক দিবস পালিত
বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ
আগস্ট ১৫, ২০১৭

জাতীয় শোক দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বাঙালি জাতির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছে গোটা জাতি। প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিলসহ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করা হয় কাঙ্গালীভোজের। এসব কর্মসূচি থেকে জাতির পিতার খুনিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের পাশাপাশি পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে ছিল সর্বস্তরের জনতার ঢল। সেখানে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। পরে শ্রদ্ধা জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, শামসুর রহমান শরীফ, মেহের আফরোজ চুমকি, মীর্জা আজম, তারানা হালিম প্রমুখ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মুহম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, মুহম্মদ ফারুক খান, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আফজাল হোসেন, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, শেখ হেলাল উদ্দিন, এএইচএম খায়রুজ্জাসান লিটন, ইকবাল হোসেন অপু, অনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সকাল ৬টার মধ্যেই অগণিত মানুষের পদচারণায় ভরে ওঠে ৩২ নম্বর সড়ক। হাতে কালো ব্যানার ও বুকে কালোব্যাজ ধারন করে নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ। সকলেই পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির জনককে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকলের জন্য উš§ুক্ত করে দেয়া হয়। সকাল সাতটা থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেন।

শোকাবহ ভাবগাম্ভীর্যের মাঝেও জোরালো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধ নিবেদন করা হয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবলীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয়, উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর নেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ ও তিতুমীর কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাংবাদিকদের সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনী। অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। কালো পাড়ের সাদা শাড়ি আর বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দলীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু ভবনে অবস্থান নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছান।

এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ, শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বী মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানত আব্দুপাহ, শেখ কবির হোসেন, মোজাম্মেল হক, উম্মে রাজিয়া কাজল, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ১১টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়াসহ এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তপাশি করা হচ্ছে।

বঙ্গভবনে দোয়া অনুষ্ঠান: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত মিলাদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অংশ নেন। মিলাদ শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরাসহ বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলাদে অংশ নেন। বঙ্গভবন মসজিদের পেশ ইমাম সাইফুল কবীর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে দরবার হলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তৈরি প্রামাণ্য চিত্র ‘সোনালি দিনগুলি’ প্রদর্শিত হয়।

যুবলীগের শ্রদ্ধা ও খাবার বিতরণ: দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সকাল ৭ টায় ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও ১৫ আগষ্টের শহীদ স্মরণে বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রাদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ সেরনিয়াবাত, মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, বদিউল আলম, কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল, ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, ইসমাইল হোসেন, রেজাউল করিম রেজাসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির একটি টিম টুংগিপাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ গুলশান ও গুলিস্থানে দুস্থদেও মাঝে খাবার বিতরন করেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোথায় তা সনাক্ত: এদিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক হত্যাকারীরা কে কোথায় আছে মোটামুটি আমরা সনাক্ত করেছি। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, শিগগিরই নূর চৌধুরীসহ তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আদালতের রায় আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি খুনিদের কার কোথায় কোন সম্পত্তি আছে সেগুলোকে আমরা বাজেয়াপ্ত করবো।

আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান: যাত্রাবাড়ি মালঞ্চকমিউনিটি সেন্টারের সামনে শোক দিবসের আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে শেখ হাসিনা এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের স্বার্থে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে। গিয়াস উদ্দিন গেসুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ হারুনর রশীদ মুন্না, ৪৮ নং ওয়াড কমিশনার আবুল কালাম অনু প্রমুখ।

চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচন প্রয়োজন: শোক দিবসে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, শোক দিবসে গোটা জাতির কাছে আমাদের আহ্বান- আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে, ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যার রাজনীতিকদের বের করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হই। জিয়াউর রহমানের মরোণত্তর বিচার দাবি করে হানিফ বলেন, জাতির পিতার হত্যার পেছনের মূল চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচন হওয়া প্রয়োজন, এটা আজকে জনগণের দাবি। আমরা আজকে শোক দিবসে এটা দাবি করছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে মূল চক্রান্তকরী খুনি জিয়াউর রহমানের মরোণত্তর বিচার দাবি করছি, তার বিচারের মাধ্যমে জনগণের সামনে চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচিত হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফুল আলম, সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জী প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ২০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জী, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক, প্রেসক্লাবের সদস্য আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

রাজধানীর নাম মুজিবনগর করার দাবি: রাজধানী ঢাকার নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী, বাংলাদেশ জনতা পার্টি ও জয়বাংলা মঞ্চ মানববন্ধন করে এ দাবি জানায়। বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে রাজধানী ঢাকার নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিলেন।

দোয়া ও খাবার বিতরণ: এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিজিবি সদর দফতরসহ রিজিয়ন, সেক্টর প্রতিষ্ঠানসমূহে কোরআন খতম এবং দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা তার নির্বাচনী এলাকায় শতাধিক স্থানে কাঙালি ভোজের আয়োজন করেন। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান মোল্লা সজল, আওয়ামী লীগ নেতা দীন মোহাম্মদ দিলু, এনামুল ইসলাম এনামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এনপিপির শ্রদ্ধা : এদিকে জাতীয় শোক দিবসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি। মঙ্গলবার দুপুরে দলটির কো-চেয়ারম্যান বাবুল সর্দার চাখারীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় এনপিপির বিদায়ী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আবুল কালাম, আনিসুর রহমান দেওয়ান, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন শেখ হাসিনা: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার গাজিপুরের কাপাসিয়ার তারাগঞ্জে শহীদ তাজউদ্দীন ও ময়েজউদ্দীন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কোরআন তেলওয়াত, দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এসময় সমর্থন অব্যাহত রেখে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার আহবান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যকে রাখেন থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজগর রশীদ খান এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় স্থানীয় মাদারাসাগুলোতে কোরান শরীফ বিতরণ করা হয়।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top