বিকাল ৫:২৫, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ছে
বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ছে
এপ্রিল ২০, ২০১৭

পাইকারি ও খুচরা গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ (৭২ পয়সা) বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ থেকে ১২ শতাংশ হারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।


 এর আগে ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে ছয়বার এবং খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন মূল্য ৫ টাকা ৫৯ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গড় দাম পড়ে ৬ টাকা ৭৩ পয়সা।

 

কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে প্রতি ইউনিটের গড় দাম হবে প্রায় ৭ টাকা ৭১ পয়সা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি তো নেই-ই, বরং দাম কমানোর সুযোগ আছে। সরকারও বলেছিল ২০১৩-১৪ সালে দাম কমানোর কথা।


 সেটা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তার দায়ভার গ্রাহকের ঘাড়ে চালানো তা অনৈতিক। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফার্নেস তেলের দাম বাজার দর অনুযায়ী নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বর্তমান বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কমে আসবে। তখন দাম বাড়ানোর কোনো প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু সরকার তা না করে বিদ্যুৎ খাতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

 

 এতে সরকারের যে বিশেষ কোনো লাভ হচ্ছে, তা-ও নয়। কেননা, সরকার একদিকে ফার্নেস তেল বেশি দামে সরবরাহ করে মুনাফা করছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য বেশি পড়ায় ভর্তুকি দিচ্ছে। আমরা মনে করি জনগণের কাঁধে এই বোঝা চাপানোর আগে তারা বিকল্প উপায়ে ক্ষতি নিরসনের চেষ্টা করলে ভালো হতো।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top