সকাল ৯:৩৮, শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিদেশ থেকে বই ছাপানো নয়
বিদেশ থেকে বই ছাপানো নয়
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

এবার বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী। জানুয়ারি মাসের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বই পৌঁছেনি ৩০ উপজেলার ওই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে। লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উপজেলার শিশুরা এমন পরিস্থিতির শিকার হলো। প্রাথমিকের বই ছাপাতে যা ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্ব ব্যাংক।

যা ছাপাতে ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্বব্যাংক। যা টাকার অংকে মাত্র ২৬ কোটি। এবার ভারতের মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান শর্তের বরখেলাপ করে ওই প্রতিষ্ঠান এখনো ৪৭ লাখ বই বুঝিয়ে দেয়নি। ওই বই কবে আসবে তাও কেউ বলতে পারছে না। ১ জানুয়ারির বই বিতরণ অনুষ্ঠানটি জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে কোন অধিকারে ১০ লক্ষাধিক শিশুকে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হলো।

সারা দেশে যখন পাঠদান শুরু করা হয়েছে বঞ্চিত শিশুরা বইয়ের জন্য পথ চেয়ে আছে। যাদেরই গাফলতিতে শিশুদের এই ক্ষতিতে পড়তে হলো, তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের আগেই দেশি বেশির ভাগ ছাপাখানা বই সরবরাহ করলেও বিদেশে ছাপা হওয়া বেশির ভাগ বই এখনো স্কুলগুলোয় পৌঁছেনি।

 শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের বই জোগান দেওয়ার জন্য দেশি ছাপাখানা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে ছাপা কাজ বন্ধ করা সময়ের দাবি। তথ্যগত ভুল ও মুদ্রণগত বিপত্তি বই উৎসবের আনন্দ এবার অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া যাবে না। বিদেশে বই ছাপানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশেই যেন বই ছাপানোর ব্যাপারে স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারি – সেদিকটা অগ্রাধিকার দিতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top