রাত ৩:০০, সোমবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা স্বচ্ছতার বড় অন্তরায়
বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা স্বচ্ছতার বড় অন্তরায়
January 7th, 2017

 


বিচারে বিলম্ব হওয়া বিচার অস্বীকার করার নামান্তর এটা বহু পুরনো এবং বহুল প্রচারিত একই উদ্ধৃতিতে বিচার ব্যবস্থায় মামলা জট ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা জনগণের বিচার লাভের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। আমাদের নিম্ন আদালতে প্রায় ২৭ লাখ মামলার জট আমরা বয়ে চলেছি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই মামলা জটের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 আর তা করতে করনীয় হিসেবে তিনি বিচারকদের প্রতি বিচার কাজে অপ্রয়োজনীয় সময়দানের সংস্কৃতি পরিহারের আহবান জানিয়েছেন। আমরা মনে করি প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং যে আহবান জানিয়েছেন তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাষ্ট্র ও সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গতিশীল বিচার ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই।

 প্রধান বিচারপতি মামলা জট ও বিলম্বিত বিচারের ব্যাপারে যে সতর্কবাণী করেছেন তাও প্রতিধান যোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘অনিষ্প মামলার এ বোঝা (মামলা জট) আদালত ব্যবস্থাপনাকে গতিহীন করতে পারে।’ ‘বার বার অপ্রয়োজনীয় সমাধান যে মামলার ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এটা কারও অজানা নয়। এতে পরোক্ষভাবে কায়েমি স্বার্থের প্রভাবই বৃদ্ধি পায় এবং বৃহত্তর অর্থে জনগণের আইনের শাসনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাজে অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতের  প্রসার ঘটিয়ে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগায়।

 সমাজে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিকাশে এবং অর্থনৈতিক উন্নতিতেও এটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এমন একটি পরিস্থিতি কোন ক্রমেই কাম্য হতে পারে না। লোকবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিচার ব্যবস্থার অন্যসব অপ্রতুল হয়তো রয়েছে। স্বল্প ব্যয়ে ও প্রকাশ্যে বিচারের মাধ্যমে আইন সম্মত সুবিচার প্রাপ্তি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :