সকাল ৮:৪০, শনিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জে ৫ জানুয়ারী পালন
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জে ৫ জানুয়ারী পালন
জানুয়ারি ৫, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট : চলতি দশম সংসদ নির্বাচনের দিন  ৫ জানুয়ারি সারাদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।  জেলায় জেলায় দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেকে। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেক নেতা-কর্মীকে । আহত এবং গ্রেফতাররা বিএনপির নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দিনটিকে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পালন করছে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’।  বৃহস্পতিবার ছিল দিনটির তৃতীয় বর্ষপূর্তি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

নওগাঁ প্রতিনিধি: গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে নওগাঁ জেলা বিএনপির দলীয় অফিস থেকে বের হওয়া কালো পতাকা মিছিলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নাননু ও সদর থানার পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের লাঠিচার্জের পর ধাওয়া করে মুক্তির মোড় এলাকা থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশসহ ১১ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নাননুর নেতৃত্বে একটি মিছিল কেডি’র মোড় দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে মুক্তির মোড়ের দিকে যেতে থাকে। মিছিলটি মুক্তির মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ মিছিলে বাধা দিয়ে ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় বিএনপির নেতাকার্মীদের সাথে পুলিশের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা বিএনপি আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নাননু, জেলা মহিলা দলের সদস্য সচিব ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শবনম মোস্তারী কলি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শফিউল আজম টুটুল, ছাত্রদল নেতা রুহুল আমিন মুক্তার, ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদের রাসেল, যুবদল নেতা আলাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শহর শাখার সভাপতি আসিফ ইকবাল ওথেলো, মহিলা দলের লাকী আক্তারসহ কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নাননু, মহিলা দলের শবনম মোস্তারি কলি ও লাকি আক্তারকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: তোরিকুল ইসলাম জানান বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় নওগাঁ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সামসুল আলম, এসআই শহিদুল ইসলাম, এএসআই হুমায়ুন কবির ও নায়েক আল আমিন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় মুক্তির মোড় এলাকা থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশ, ছাত্রদল নেতা খায়রুল আলম গোল্ডেন, জাকারিয়া রোমিও, খলিলুর রহমান, তৌফিকুর রহমান লালূ, শহিদুল ইসলাম মোহন,  তারিকুল ইসলাম, আলাল মন্ডল, জামাল শেখ, গোলাপ মন্ডল, মতিউর রহমান বুলুসহ ১১ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। লাঠিচার্জের পর মুক্তির মোড় থেকে জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নাননুকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: তোরিকুল ইসলাম আরো জানান, বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় জেলা যুবদলের সভাপতিসহ আটককৃত ১১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: কেনদ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির ডাকে জয়পুরহাটে পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পন্ড হয়েছে।  বৃহস্পতিবার বিএনপির ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক কালো পতাকা মিছিল বের করে বিএনপি অফিস সংলগ্ন রেলগেট পার হয়ে ছানা ঘরের কাছে এলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এসময় এক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল না করতে পেরে তারা জেলা অফিসে অবস্থান নেয়। সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান, বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ইনজিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বকুল, অধ্যক্ষ সামছুল হক, মুশফিকুর রহমান বুলু, জেলা যুবদলের সভাপতি সেলিম রেজা ডিউক প্রমুখ। জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান অবিযোগ করেন তাদের শান্তিপুর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে। এদিকে মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, গুলিটি বিএনপির মিছিল থেকে করা হয়েছে। মিছির থেকে কে এবং কারা গুলি করেছে তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: পুলিশি বাধার মুখে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি।  দিবসটি উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার পুরাতন পোস্টপাড়ার দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশি বাধার মুখে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, যুগ্ন সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম নুরু প্রমুখ।

বরিশাল প্রতিনিধি : নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিনে বরিশালে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিএনপির অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। অন্যপদিকে ক্ষমতাসীনরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বিএনপির নাটক বলেছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম রউফ জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদর রোড তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিতে থাকে। একই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও কিছুটা দূরে সদর রোডে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিক থেকে একটি বোতল ছুড়ে মারা হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিকে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যেত ছাত্রলীগের কর্মীদের লাঠি হাতে চড়াও হতে দেখা যায়। কিছু সময় পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে গোলাম রউফের ভাষ্য। সংঘর্ষের পর বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন  বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্য দিকে ঘটনার সময় উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বিএনপি হামলার নাটক সাজিয়েছে। তারা নিজেরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ওপর দায় চাপাচ্ছে। আহতদের মধ্িেয আজাদ নামে একজনকে দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার দলীয় পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য  পাওয়া যায়নি।

খুলনা প্রতিনিধি : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এমন অভিযোগ করেছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র নেতারা। তারা বলেন, মিছিল নিয়ে বের হলে প্রায় আধা ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার‌্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল বের করলে এ ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর আগে বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি এবং ছাত্রদল-যুবদল-মৎস্যজীবী দলের নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। এ প্রসঙ্গে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম  বলেন, অনুমতি না নিয়ে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করায় বাধা দেওয়া হয়েছে।

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে মহানগর যুবদলের মিছিল ও মহানগর বিএনপির বিক্ষোভে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আটক করা হয়েছে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ তিনজনকে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের গুলশান হলের সামনে যুবদলের মিছিলে এবং ডিআইটি এলাকায় বিএনপি কার‌্যালয়ের নিচে নেতাকর্মীদের সমাগমে এ লাঠিচার্জ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করায় নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে শহরের মন্ডলপাড়া পুল এলাকা থেকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় জেলা বিএনপির কার‌্যালয়ের সামনে আসার পথে গুলশান হলের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় ধস্তাধস্তি শুরু হলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে আহত হন যুবদল নেতা জুলহাস ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক রাশেদুর রহমান রশুসহ ১০-১২ জন। আটক করা হয় খোরশেদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রানা মুজিব, যুবদল নেতা আলামিন খান ও বাদশা মিয়াকে। একই সময়ে বিএনপি কার‌্যালয়ের নিচে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো থাকলে হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মুছা গুরুতর আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আটক হওয়ার সময় খোরশেদ গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ করেছে। এ সময় আহত হন মহানগর বিএনপি নেতা রুহুল আমিন, রিফাত আহমেদসহ বেশ কয়েকজন কর্মী। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আজকে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে পুলিশ আবারও প্রমাণ করলো আসলেই আজকের দিনটিতে কিভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ দিনটিকে গণতন্ত্রের কালো দিন আখ্যা দিয়ে ঘৃণাভরে স্মরণ করি। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের অগণতান্ত্রিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা করেছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শরফুদ্দিন আহমেদ  বলেন, শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ।  বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ বাধায় দেয়। পুলিশি বাধার মুখে বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যান নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে। আম্বরখানা এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদের নেতৃত্বে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে রাজপথ ত্যাগ করেন। এর আগে সিলেট ছাত্রদলের উদ্যোগে নগরী জিন্দাবাজার থেকে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেতেই বাধা দেয় পুলিশ। এদিকে, মিছিল না করতে দেওয়ার ব্যাপারে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (এডিসি-মিডিয়া) জেদান আল মুছা  বলেন, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট বিএনপিকে ঘরোয়াভাবে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রাস্তায় কর্মসূচি বা কালো পতাকা মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন। সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের গোয়ালচামট রকিবউদ্দিন পৌর মার্কেটের সামনে থেকে কালো পতাকা নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। বিএনপি নেতা জুলফিকার হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সভা হয়। সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাবিবুর রহমান হাফিজ, সিদ্দিকুর রহমান, আশরাফ হোসেন প্রমুখ। এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে শহর বিএনপির একটি মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নতুন বাজার মোড় থেকে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার গণতন্ত্র রক্ষার নামে বারবার গণতন্ত্র হত্যা করে চলছে। জনগণ একদিন এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবস বানচাল করার জন্য সরকারের নির্দেশে রাতভর পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে; নেতা-কর্মীদের হুমকিও দিয়েছে কোনো কর্মসূচি না করার জন্য। অভিযোগ ঠিক নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত নেতা-কর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কোনো নেতাকর্মীকে কর্মসূচি না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়নি।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top