সকাল ১০:২৯, বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয়: মওদুদ
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয়: মওদুদ
জুলাই ৮, ২০১৭

বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য সংসদে আইন করে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সেক্রেটারিয়েট (সচিবালয়) প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় দলের এই চিন্তা-ভাবনার কথা জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কারণ তুলে ধরে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, এখনো নিম্ন আদালতের বিচারকরা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে অর্জন করা সম্ভবপর হবে না, যতদিন পর্যন্ত নিম্ন আদালতের সমস্ত নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী, শৃঙ্খলা রক্ষা করার সমস্ত দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর অর্পিত না হবে। আমরা মনে করি, সেজন্য বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রয়োজন হবে এবং যেদিন সেটা করা হবে সেদিনই সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে; আইন মন্ত্রণালয় বা প্রশাসন কিংবা সরকারের ওপরে আমাদের বিচার বিভাগকে আর নির্ভরশীল হতে হবে না। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতাসীন আছেন, সেই প্রেক্ষাপটে এই রায় দেশের সকল শ্রেণির মানুষের মনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরো সুরক্ষিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রত্যাশা করে যে, তারা আইনের শাসন দেখবে এবং দেশের সকল মানুষের সমান অধিকার দেখবে। সুপ্রিম কোর্ট একটা ব্রাইভরেন্ট, একটা ফাংশনাল, একটা এফেক্টিভ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করবেন- এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। বিএনপির এই নেতা বলেন, কাদের হাতে আমরা বিচারকদের অপসারণের দায়িত্ব দিতে চাই? এই সংসদ? যারা অধিকাংশই নির্বাচিত নন, তাদের কাছে? আমাদের দেশে গণতন্ত্র এখনো ম্যাচুরিটি অর্জন করতে পারেনি। ইট ইজ এন ইমম্যাচুর ডেমোক্রেসি, এখানে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের চর্চা নেই।

মওদুদ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার সাথে সাথে যদি বিচারপতি অপসারণের প্রশ্ন আসে, যেকোনো কারণেই হোক সেটা সংবিধানে আছে, তাহলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমে যেটা সংবিধানে আগে দেয়া ছিলো, সেটা কার্যকর হবে। এই কথা বলা প্রয়োজন এই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সংগঠনের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top