সকাল ৮:০২, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ময়মনসিংহ / বাসাইলে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো ছাত্রী
বাসাইলে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো ছাত্রী
নভেম্বর ২৩, ২০১৬

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রশাসনের সাহায্যে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো কল্পনা শীল (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রী। সে বাসাইল পৌর শহর পূর্বপাড়ার শ্রীভাস চন্দ্র শীলের কন্যা ও বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা জায়, সোমবার পারিবারিকভাবে কল্পনা শীলকে বিয়ে দেওয়ার সকল প্রস্তুতি শেষ করে তার বাবা-মা। কিন্তু বাধ সাধে কল্পনা শীল। সে ১৮ বছরের আগে বিয়ে করবে না বলে তার বাবা-মাকে জানায়। তার মতামত উপেক্ষা করে তার বাবা-মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা সোমবার কল্পনার বিয়ের দিন ধার্য করে। গত রবিবার ভোকেশনাল পরীক্ষা শেষ করে দুই বান্ধবীসহ কল্পনা হাজির হয় বাসাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাজমুল আহসানের কার্যালয়ে। পরে জোর করে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জেনে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল আহসান কল্পনার বাবা-মাকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এ সময় কল্পনার বাবা শ্রীভাস চন্দ্রশীলকে এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের জেল দেওয়া হয়। মেয়েকে আঠার বছরের আগে বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে কল্পনাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় তার বাবা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমসহ অন্যরা।

কল্পনা শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাল্য ও শিশু বিবাহের বিভিন্ন কুফল ও আইনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন হয়েই আমি প্রতিজ্ঞা করি ১৮ বছরের আগে বিয়ে করবো না। তাই স্যারের (এসিল্যান্ড) শরণাপন্ন হয়েছি।’

বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে যদি কল্পনাকে তার পিতা মমাতা পড়াতে না চান তবে তাকে এসএসসি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় করছি। মানুষ সচেতন হচ্ছে কল্পনা শীল তারই প্রমাণ।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top