সকাল ৬:০৮, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / বাল্য বিবাহ রোধ করতেই হবে
বাল্য বিবাহ রোধ করতেই হবে
মে ১৬, ২০১৭

হাদিউল হৃদয়:‘থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে,/ হবেনা বাল্য বিয়ে;/ থাকলে শিশু লেখাপড়ায়,/ সফল হবে জীবন গড়ায়’Ñ এই স্লোগানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানিকে লালকার্ড দেখিয়ে সচেতনতামূলক করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ইস্যুটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি উপজেলা।


এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাল্য বিবাহে শীর্ষ দেশ সমূহের একটি বাংলাদেশ। অবশ্য জেলার কোন কোন উপজেলা ইতোমধ্যে সরকারি তরফে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হলেও মূলত: বাল্য বিবাহ থেমে নেই কোথাও। সরকারিভাবে বাল্য বিয়ের উপদ্রব হ্রাসের কিছু পদক্ষেপ থাকলেও বেসরকারিভাবে এটা বন্ধের প্রয়াস অল্পই। কারণ, এনজিওরা স্বেচ্ছাসেবায় যা করছে প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে তাও বেগবান হচ্ছে না।

 

সরকারি প্রচেষ্টার মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও লাল কার্ড ক্যাম্পেইন কেবল মাঝে মাঝে দৃশ্যমান। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্লান বাংলাদেশ এর সহায়তায় চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে বাল্য বিবাহ নিরোধে একটা ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথা সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে। সেটা কখন কীভাবে কতটুকু সফল হবে তা দেখার প্রতীক্ষায় থাকতে হবে।

 

তবে আমরা মনে করিÑ বাল্য বিবাহ নির্মূলে কতিপয় বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে তৎপরবর্তী পুনশ্চ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গৃহীত হতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নারী সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি সত্যকার রূপে সচল সক্রিয় ও তৎপড় করা। পাশাপাশি ইউপি ও ওয়ার্ড ভিত্তিক এবং সম্ভব হলে গ্রাম ভিত্তিক বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটিসহ উপজেলা প্রর্যায়ে সুশীল সমাজকে অন্তর্ভূক্ত করে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ওয়াচ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। থাকতে পারে এগুলো পরিচালনার একটি গাইডলাইনও। এছাড়া স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী সমন্বয়ে সচেতনামূলক সভার মাধ্যমে বাল্য বিবাহ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।


এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাও জোরালো ভূমিকা পালনে এগিয়ে এলে ভালো হবে। শুধু তাই নয়; রাস্তা-ঘাট আর দালান কোটা নির্মাণের পাশাপাশি এদিকটার জন্য কিছু সরকারি বিনিয়োগ করা জরুরি। অন্তত ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু সচেতনা বিল বোর্ড স্থাপন করা অত্যন্ত যৌক্তিক। এছাড়া মনে রাখতে হবে- ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ ব্যতীত কোন সামাজিক আন্দোলন সফল হতে পারে না। এ জন্য সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ- অভিযান আবশ্যক।  বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গ এমনিতে  প্রায়শঃ বলা হয়; কিন্তু আইনটি সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচিত বা অবহিত করার কোন দৃষ্টান্ত নেই যা দ্রুত দরকার। একই সাথে আইনের প্রয়োগেও  জিরো টলারেন্স থাকতে হবে।


এছাড়া আইইসি-বিসিসি উপকরণ বিতরণ করলে সমাজে এর প্রভাব পড়বে স্পষ্টই। এটা করতে জেলা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকরি উদ্যোগ নিতে পারে। তাই বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়টিকে একটা সামাজিক বিপ্লব ধরনের আন্দোলনে পরিণত করে তা বাস্তবায়িত করার সুদুরপ্রসারী দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ও সেই মোতাবেক ধারাবাহিক অব্যাহত কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি যৌথ পার্টনারশীপে গ্রহণ করা জরুরি প্রয়োজন। যেহেতু এটা সমাজদেহে অভিশাপ বা ক্যান্সার ব্যাধির মত সংক্রমিত হচ্ছে – তাই এ সমস্যা থেকে অব্যাহতির খন্ডিত ও বিচ্ছিন্ন চিন্তা না করে স্থায়ী উপায় অনুসন্ধান করতে হবে।
লেখক ঃ কবি-সাংবাদিক
hadiulridoy@gmail.com



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top