রাত ১১:২২, শনিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বাঙালি জাতির গৌরবের মাস ডিসেম্বর
বাঙালি জাতির গৌরবের মাস ডিসেম্বর
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

 আব্দুল হাই রঞ্জু দেখতে দেখতে ৪৫টি বছর পেরিয়ে গেল। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। যা অর্জন করতে বাঙালি জাতিকে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে আন্দোলন সংগ্রামের পথে হাঁটতে হয়েছে। দু’শ বছর ধরে সাম্রাজ্যবাদি বৃটিশ বেনিয়াদের দুঃশাসন এবং শোষণের বিরুদ্ধেও বাঙালি জাতিকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার সুর্যকে ছিনিয়ে আনতে মাস্টারদা সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতার জীবনকে উৎসর্গ করতে হয়েছে। টানা দু’শ বছর ধরে বৃটিশরা গোটা ভারত বর্ষে কৃষক, শ্রমিক, জনতার ওপর চালিয়েছে শোষণ আর নির্মম নির্যাতন। চাষীদের নীল চাষে বাধ্য করতে চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। যার কবল থেকে মুক্ত হতে বাঙালি জাতির সূর্য সৈনিকরা জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করেছে।

 যার ফসল ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম। এই স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারেনি। নতুন করে শুরু হয় পশ্চিমা শাসক ও শোসক গোষ্ঠীর শোষণের পাশাপাশি দুঃশাসন। যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে টানা দুই যুগ ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। উর্দুভাষী পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর প্রথমেই নজরে পড়ে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। তারা চেয়েছিল, বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দুই হবে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উর্দুভাষী পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের সুতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, এ কথা ঘোষণার পরপরই সমবেত ছাত্র সমাজ না না ধ্বনিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

 শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলন। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের গর্ভেই রুপিত হয় বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন। যা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হতে থাকে। পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর ইচ্ছা ছিল, বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলার বদলে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করা সম্ভব হলে বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তিমিত করে রাখা যাবে। কারণ ভাষা, সংস্কৃতির বিকাশ না হলে সে জাতিকে চিরদিনের মতো পদানত করে রাখা সম্ভব। বাস্তবে বাঙালি জাতির ইতিহাস সে কথা বলে না। যার স্বাক্ষর রেখে গেছেন মাস্টারদা সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতার মতো অনেক আত্মউৎসর্গকারী বীর বাঙালিরা। যাদের মেধা মননে স্বপ্ন ছিল শোষণহীন, বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থার। যে সমাজ ব্যবস্থায় দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যভিচার, শোষণ বঞ্চনার কোন গ্লানি থাকবে না।

 মানুষ বসবাস করবে সুখি সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। যে স্বপ্নকে লালন করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, মাওলানা ভাষানী, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতারা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করে ছিলেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাঙালি জাতি পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জীবনকে বাজি রেখে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফার দাবি বাস্তবায়নে মুক্তিপাগল বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। বাঙালী জাতির আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ১৯৭০ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে শুরু হয় নতুন করে ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী জনগণের রায়ের প্রতি ন্যুনতম সামান প্রদর্শন না করে উল্টো ৭১-এর ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে অপারেশন সার্চের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে নারকিয় হত্যাযজ্ঞ।

‘যার যা কিছু আছে, তাই দিয়ে শত্র“র মোকাবেলা করো’ বঙ্গবন্ধুর সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানী সামরিক জান্ডার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। এক দিকে সুসজ্জিত অস্ত্রে সমৃদ্ধ পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী, অন্যদিকে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির অদম্য স্বাধীনতা অর্জনের আকাংখা নিয়ে যুদ্ধ শুরু। সেই অসম যুদ্ধেও নয় মাসের বেশি পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।

তবে জীবন দিতে হয়েছে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে। পাকিস্তানী সামরিক জান্তার লেলিয়ে দেওয়া বর্বর হানাদাররা বাঙালি নিধনে যেমন মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তেমনি আমাদের মা বোনরাও তাদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেনি। প্রায় দু’লক্ষ মা বোনের ইজ্জ্বত, আর ৩০ লক্ষ বাঙালির আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। আমরা অর্জন করি আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসে মাত্র নয় মাসে হয়ত আর কোন দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়নি। বাঙালির অনেক রক্তে কেনা আমাদের প্রিয়ভূমি বাংলাদেশের মানুষের কি প্রান্তি, স্বভাবতই জাগে সে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই স্বাধীনতা লাভের ৪৫টি বছর অতিবাহিত হয়েছে। আমরা পেয়েছি একটি ভৌগলিক স্বাধীনতা। লাল সবুজের প্রাণের পতাকা পত পত করে উড়ে বাংলার জমিনে।

 কম কিসে এ প্রান্তি? যা সত্য। কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে কতটুকু? জবাবে বলতে হয়, সাত কোটি জনসংখ্যার ভুখন্ডে মানুষ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৬ কোটিরও অধিক। স্বাধীনতার সুবাদে গুটিকতক মানুষের জীবন মানের যেমন সমৃদ্ধি এসেছে, তেমনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হারিয়েছে তাদের সুখ সমৃদ্ধি। স্বাধীনতা উত্তর গত ৪৫ বছরে এ দেশের কৃষক জমি হারিয়ে হয়েছে ভূমিহীন কিম্বা  বর্গাচাষী। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি দিন দিন বেড়েই চলছে, কিন্তু চাষীরা পাচ্ছেন না উৎপাদিত কৃষি ফসলের উপযুক্ত মূল্য। অনেক সময়ই মহাজনী ঋণ, এনজিও ঋণ কিম্বা কোন তফসিলী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ফসলের ন্যায্যমূল্যের অভাবে সে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে চাষীরা হচ্ছেন ঋণ খেলাপী। ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে মামলার জালে বন্দি হচ্ছেন চাষীরা। অথচ দেশের গুটিকতক মানুষ ব্যাংকের সিংহভাগ টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে বছরের পর বছর ধরে পরিশোধে ব্যর্থ হলেও যাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয় না, বরং রুগ্ন শিল্প চিহ্নিত করে ওইসব শিল্পে পুনঃঅর্থায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? সোজাসাপটা উত্তর হচ্ছে, শ্রেণী স্বার্থ।

 কারণ দেশের ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তাদের অধিকাংশ নেতাই ব্যবসায়ী। যারা নির্বাচন এলে টাকার জোড়ে নির্বাচিত হয়। আর যারা বিত্তহীন রাজনীতিক তারা যতই সৎ হোক না কেন, তারা সহসাই নির্বাচনে জিতে আসতে পারেন না। এক জরিপে দেখা গেছে, এখন যারা ক্ষমতার রাজনীতিতে যুক্ত তাদের প্রায় ৮০ ভাগই ব্যবসায়ী, প্রকৃত অর্থে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতৃত্ব এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে প্রকৃত জনদরদি নেতা-নেত্রীর এখন বড়ই অভাব। সংগত কারণে স্বাধীনতা উত্তর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার নীতি নৈতিকতা এখন প্রায় নির্বাসনে। আগেই বলেছি, শ্রেণী স্বার্থ রক্ষার কারণে বারংবার ধনীদের সুযোগ সুবিধা যে হারে ফিরে আসে, সে হারে সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলের কোন সুযোগ আসে না। এ জন্য কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষের বাসপোযোগী একটি শ্রেণীহীন, বৈষম্যহীন, শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, এ দেশে শ্রেণীহীন, শোষণহীন সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য বাম দলগুলোর ব্যর্থতা পাহাড় সমান। যাদের কেউ কেউ ক্ষমতার রাজনীতির অংশিদার হয়ে তাবেদারে পরিণত হয়েছে।

 আবার বামদের মধ্যে তত্বের কচকচানিতে বাম বিভক্তি, বাম বিচ্যুতির সুযোগে প্রকৃত বামধারার রাজনীতি নিয়ে জনমনে এক ধরনের হতাশাও রয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের স্বার্থে বুর্জোয়া দলগুলোর ঐক্যজোট এদেশে সহসাই চোখে পড়লেও বামদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠে না। এটাও বামদের চরম ব্যর্থতা। যে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ সন্ধানী সাম্প্রদায়িক দলগুলো এ দেশের মানুষকে বিপথগামী করছে। স্মরণে রাখতে হবে, মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গুত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু সে আকাংখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষকে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করতে অনেকের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেমন ভুমন্ডলের কোন স্থানের বাতাস শূন্য হলে, তা পুরণে অতিদ্রুত সেখানে বাতাস পৌছার কারণে ঝড় কিম্বা ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়।

 তেমনি রাজনীতিতে মানুষের আকাংখার স্থানটি শূন্য হলে, তা পুরণে মানুষ বিপথগামী হতেও পিছ পা হয় না। ঐতিহাসিকগতভাবে প্রমাণিত মানুষের স্বার্থ রক্ষার জায়গাটিকে ডান ধারার রাজনীতি দিয়ে কোন দিন পূরণও সম্ভব নয়। আবার বাম ধারার  রাজনীতিও যদি তা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ পরিবর্তনের আশায় বিপথগামী হবে- এটাই স্বাভাবিক। ফলে দেশে এখন বিপথগামী মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়েই বাড়ছে। প্রকৃত অর্থে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় শোষণ, বঞ্চনা মুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থার প্রবর্তন। সে সমাজ ব্যবস্থায় লুটেরা, দুর্নীতিবাজ মানুষের কতৃত্ব খর্ব হবে। যেখানে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রকৃত জনবান্ধব নীতির বাস্তবায়ন হবে। অতিসম্প্রতি কিউবার কিংবদন্তী জনগণের প্রকৃত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনাবাসন হলো। তিনি তাঁর দেশটিকে বুর্জোয়া রাজনীতির কবল থেকে মুক্ত করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 সাম্রাজ্যবাদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে তাদের দেওয়া অর্থনৈতিক অবরোধকে সামাল দিয়ে কিউবাকে ৪০ বছর ধরে ফিদেল কাস্ত্রো শাসন করেছেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। এমনকি মার্কিন সরকার যুগের পর যুগ ধরে একাধিকবার ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেও সফল হতে পারেনি। যা শুধু সম্ভব হয়েছে কিউবার জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্র“তির কারণে। অথচ বীরের জাতি হিসেবে পরীক্ষিত বাঙালি জাতি বিদেশী তাবেদার ও সাম্রাজ্যবাদীদের দুর্গকে চুর্ণ বিচূর্ণ করে মহান স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনার গৌরব অর্জন করেও অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মুক্তি আজ পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। উল্টো বাঙালি জাতি পাকিস্তানী ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের পিচ্ছিল পথ বেয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলাদেশে এখন লক্ষাধিক নব্য কোটিপতি পরিবারের জন্ম হয়েছে।

 অর্থাৎ নব্য শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়নের মাত্রা এখন অনেক বেশি সক্রিয়। বুর্জোয়া রাজনীতির শক্তিশালী এই দুর্গকে চুর্ণ বিচূর্ণ করে সমাজ বদলের অঙ্গিকার নিয়ে বাঙালি জাতিকে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তানা হলে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করা স্বপ্নে সম্ভব হলেও বাস্তবে তা কোন দিন সম্ভব হবে না। এ জন্য প্রয়োজন প্রকৃত অর্থে জনগণের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কারণ আজ হতে ৪৫ বছর আগে বিজয়ের যে ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল, যা ছিল মহান এবং পবিত্র। সে বিজয়ের লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও নিখাদ সত্য, স্বাধীনতার স্বাদটুকু এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ এখন নির্বিঘেœ ভোগ করতে পারছেন। ভৌগলিক স্বাধীনতা ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদেরকে শোষণহীন, বৈষম্যহীন একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সফল করতে হবে। তা না হলে ৪৫ বছর কেন, ৪৫ যুগেও এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মুক্তি অর্জিত হবে না।
  লেখক : প্রাবন্ধিক
০১৯২২-৬৯৮৮২৮



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top