বিকাল ৪:০৬, শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা / বাংলা ২য় পত্র
বাংলা ২য় পত্র
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬

সারাংশ (অনুশীলনী)

১।     অপরের জন্য তুমি প্রাণ দাও, আমি তা বলতে চাইনে। অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ তুমি দূর কর। অপরকে একটুখানি সুখ দাও। অপরের সাথে একটুখানি মিষ্টি কথা বল। পথের অসহায় মানুষটির দিকে একটু করুণ কটাক্ষ নিক্ষেপ কর, তাহলেই অনেক হবে। চরিত্রবান, মনুষ্যত্বস¤পন্ন মানুষ নিজের চেয়ে পরের অভাবে বেশি অধীর হন, পরের দুঃখকে ঢেকে রাখতে গৌরব বোধ করেন।

সারাংশ : পরের জন্য জীবন বিলিয়ে না দিয়েও মানুষের উপকার করা যায়। দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো, তাদের সঙ্গে মিষ্টি কথা বলার মতো ছোট ছোট উপকারে ব্রতী হওয়ার মধ্যেই মনুষ্যত্বের প্রকাশ ঘটে।

২।    নিষ্ঠুর ও কঠিন মুখ শয়তানের। কখনো নিষ্ঠুর বাক্যে প্রেম ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা হয় না। কঠিন ব্যবহারে ও রূঢ়তায় মানবাত্মার অধঃপতন হয়। সাফল্য কিছু লাভ হইলেও যে আত্মা দরিদ্র হইতে থাকে, সুযোগ পাইলেই সে আপন পশু স্বভাবের পরিচয় দেয়। যে পরিবারের কর্তা ছোটদের সঙ্গে অতিশয় কদর্য ব্যবহার করে, সে পরিবারের প্রত্যেকের স্বভাব অতিশয় মন্দ হইতে থাকে। শিশুর প্রতি একটি নিষ্ঠুর কথা, এক একটা মায়াহীন ব্যবহার, তাহার মনুষ্যত্ব অনেকখানি কমাইতে থাকে। অতএব, শিশুকে নিষ্ঠুর কথা বলিয়া তাহার সঙ্গে প্রেমহীন ব্যবহার করিয়া তাহার সর্বনাশ করিও না। একটা মধুর ব্যবহার অনেকখানি রক্তের মতো শিশুর মনুষ্যত্বকে সঞ্জীবিত করে। পরিবারের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতির জন্য সকলের চেষ্টা করা উচিত। ইহাই পরিবারের প্রতি প্রেম।

সারাংশ : নিষ্ঠুর ও কঠিন আচরণে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। এ ধরনের আচরণ মনুষ্যত্বের অন্তরায়। তাই পারিবারিক প্রেম ও সর্ম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য একে অপরের সঙ্গে রূঢ় ও কঠিন ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

৩।     এ জগতে যিনি ওঠেন, তিনি সাধারণের মধ্যে জন্মিয়া, সাধারণের ওপর মস্তক তুলিয়া দাঁড়ান। তিনি অভ্যন্তরীণ মাল-মসলার সাহায্যেই বড় হইয়া থাকেন। কুষ্মা -লতা যেমন যষ্ঠির সাহায্যে মাচার ওপর ওঠে, তেমনি কোনো কাপুরুষ, কোনো শ্রমকাতর মানুষ কেবল অপরের সাহায্যে জগতে প্রকৃত মহত্ত্ব লাভ করিতে পারিয়াছে? এ জগতে উঠিয়া-পড়িয়া, রহিয়া-সহিয়া, ভাঙিয়া-গড়িয়া, কাঁদিয়া-কাটিয়া মানুষ হইতে হয়। ইহা ছাড়া মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্ব লাভের আর কোনো পথ নাই।

সারাংশ : এ পৃথিবীর অসাধারণ ব্যক্তিরা সাধারণের মধ্যেই জন্ম নেন। দুঃখ-কষ্ট, ঘাত-প্রতিঘাতকে সহ্য করে, নিজের শক্তি বলেই তাঁরা মাথা তুলে দাঁড়ান। অপরের সাহায্য নিয়ে কেউ প্রকৃত মহত্ত্ব লাভ করতে পারেন না। মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্ব লাভের জন্য জীবনে অক্লান্ত সংগ্রাম করতে হয়।

৪।    তুমি জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করিতে চাও? কিন্তু সে জন্য তোমাকে প্রাণান্ত পরিশ্রম করিতে হইবে। মহৎ কিছু লাভ করিতে হইলে কঠোর সাধনা দরকার। তোমাকে অনেক দুঃখ সহ্য করিতে হইবে। অনেক বিপদ-আপদের সম্মুখীন হইতে হইবে। এই সব তুচ্ছ করিয়া যদি তুমি লক্ষ্যের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হইতে পার, তবে তোমার জীবন সুন্দর হইবে। আরো আছে, তোমার ভেতরে এক ‘আমি’ আছে। সে বড় দুরন্ত। তাহার স্বভাব পশুর মতো বর্বর ও উচ্ছৃঙ্খল। সে কেবল ভোগ-বিলাস চায়, সে বড় লোভী। এই ‘আমি’ কে জয় করিতে হইবে। তবেই তোমার জীবন সার্থক ও সুুন্দর হইয়া উঠবে।

সারাংশ : কঠোর পরিশ্রম দ্বারাই জীবনকে সার্থক করে তোলা যায়। জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে ‘আমিত্ব’ অহংকারকে ত্যাগ করতে হবে এবং ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকতে হবে। সর্বোপরি লোভ-লালসাকে জয় করতে পারলেই জীবন সুন্দর ও সার্থক হয়ে উঠবে।

৫।     জীবনের কল্যাণের জন্য, মানুষের সুখের জন্য এ জগতে যিনি যত কথা বলিয়া থাকেন তাহাই সাহিত্য। বাতাসের ওপর চিন্তা ও কথা স্থায়ী হইতে পারে না, মানবজাতি তাই অক্ষর আবিষ্কার করিয়াছে। মানুষের মূল্যবান কথা, উৎকৃষ্ট চিন্তাগুলি কোনো যুগে পাথরে, কোনো যুগে গাছের পাতায় এবং বর্তমানে কাগজে লিখিয়া রাখা হইয়া থাকে। যে নিতান্তই হতভাগা, সেই সাহিত্যকে অনাদর করিয়া থাকে। সাহিত্যে মানুষের সকল আকাক্সক্ষার মীমাংসা হয়। তোমার আত্মা হইতে যেমন তুমি বিচ্ছিন্ন হইতে পার না, সাহিত্যকেও তুমি তেমনি অস্বীকার করিতে পার না— উহাতে তোমার মৃত্যু, তোমার দুঃখ ও অসম্মান হয়।

সারাংশ : মানুষের কল্যাণ ও সুখের জন্য সুবিন্যস্ত কথামালাই সাহিত্য। অক্ষর আবিষ্কারের পর যখন কাগজ আবিষ্কৃত হয়নি, তখন মানুষের মূল্যবান কথা, উৎকৃষ্ট চিন্তা কখনো পাথরে, কখনো গাছের পাতায় লিখে রাখত। সাহিত্যের অনাদর অনুচিত। মানুষের সব আকাক্সক্ষার মীমাংসা সাহিত্যে নিহিত। সাহিত্য আত্মার মতোই অবিচ্ছিন্ন।

সারমর্ম (অনুশীলনী)
১।   আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত,
গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত।
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান,
তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম-মহান,
চলমান-বেগে প্রাণ-উচ্ছল,
রে নবযুগের স্রষ্টা দল,
জোর কদমে চল রে চল।

সারমর্ম : নষ্ট অতীতকে পেছনে ফেলে, সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আÍপ্রত্যয়ী যুবসমাজ এক নতুন জগৎ সৃষ্টি করবে। তাদের সাধনায়ই জন্ম নেবে এক নতুন পৃথিবী। তাই প্রাণচঞ্চল তরুণদের সজোরে সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে।

২।    একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে,
দহিল হৃদয় মম সেই ক্ষোভানলে।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।
সেথা দেখি একজন পদ নাহি তার,
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন,
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ।

সারমর্ম : পরের জন্য দুঃখ অনুভব করলে নিজের দুঃখ হ্রাস পায়। পদহীন দুঃখীজনের কথা চিন্তা করলে কারো পায়ে জুতা না থাকার দৈন্য মনে স্থান পায় না। আসলে পরের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করার মধ্যেই আÍতৃপ্তি নিহিত।

৩।    এই সব মূঢ় ¤¬ান মূক মুখে
দিতে হবে ভাষা, এই সব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে
ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা; ডাকিয়া বলিতে হবে—
মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা-চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনই সে পলাইবে ধেয়ে।
যখনি দেখিবে তুমি সম্মুখে তাহার তখনি সে
পথ কুক্কুুরের মত-সংকোচে সন্ত্রাসে যাবে মিশে।
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার;
মুখে করে আস্ফাালন, জানে সে হীনতা আপনার
মনে মনে।

সারমর্ম : সবাইকে দীন-দুঃখী নিপীড়িতদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তাদের বুকে সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। অত্যাচারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার হীন কর্মের জন্য সে মনের দিক থেকে দুর্বল থাকে বলে সবাই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে অত্যাচারী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিদূরিত হয়।

৪।      মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে,
স্বীয় কীর্তি-ধব্জা ধরে,
আমরাও হব বরণীয়।
সময় সাগর তীরে
পদাঙ্ক অঙ্কিত করে,
আমরাও হব যে অমর
সেই চিহ্ন লক্ষ্য করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর।
করো না মানবগণ,
বৃথা ক্ষয় এ জীবন
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে,
সংকল্প করেছ যাহা
সাধন করহ তাহা,
ব্রতী হয়ে নিজ নিজ কাজে।

সারমর্ম : জীবনের আনন্দ ও সার্থকতা কর্মস¤পাদনের মধ্যে নিহিত। মহৎ ব্যক্তিরা অমর কীর্তি দ্বারা পৃথিবীর বুকে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁদের মতো কর্মোদ্দীপনাকে পাথেয় করে আমরাও সম্মানের স্থান অধিকার করব। কর্মস¤পাদন দ্বারা যেখানে জীবনের সার্থকতা আসে, সেখানে কর্মহীন থেকে জীবন নষ্ট করা অনুচিত।

৫।    শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে প শ্রম
ফল চাহে, সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?

সারমর্ম : উপযুক্ত সময়ে সব কাজ স¤পন্ন না করলে যথার্থ ফল লাভ করা যায় না। শৈশবে সদুপদেশ গ্রহণ না করলে, জীবনে কারো যেমন মূর্খতা ঘোচে না, সঠিক সময়ে জমি চাষ না করলে যেমন ভলো ফসল পাওয়া যায় না, খেয়াতরী চলে গেলে যাত্রী যেমন পার পায় না, ঠিক তেমনি সময় মতো সব কাজ না করলে—মানবজীবনে সার্থকতা লাভ করা যায় না। তাই জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য শৈশব থেকেই সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ের সদ্ব্যবহারের অনুশীলন করা উচিত।

৬।    জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি, কত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী।

সারমর্ম : যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর সব বড় বড় কাজের মূলে রয়েছে নারী ও পুরুষের যৌথ ভূমিকা ও অবদান। পুরুষের পাশে থেকে সব সময় নারী তাদের শক্তি, সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু তবুও নারীর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি; ইতিহাসের পাতায় তাদের ভূমিকা যথাযথ লিপিবদ্ধ হয়নি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top