সকাল ৯:৪২, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত / বনানীর ধর্ষণ মামলা দুই তরুণীর নিরাপত্তায় পুলিশ তদন্ত দ্রুত শেষ করতে কমিটি
* স্বর্ণের কাগজ ছাড়াই শুল্ক গোয়েন্দা অফিসে দিলদার * ২৩ মে হাজির হতে হবে আদনান হারুনকে
বনানীর ধর্ষণ মামলা দুই তরুণীর নিরাপত্তায় পুলিশ তদন্ত দ্রুত শেষ করতে কমিটি
মে ১৭, ২০১৭

রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (ডিবি) বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এছাড়া আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য উচ্চপার্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন এ কমিটির সদস্য।

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে গতকাল হাজির হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিক। তবে জুয়েলার্সটির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জব্দকৃত প্রায় সাড়ে ১২ মন স্বর্ণের কোন বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। আর গতকাল হোটেল রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের পুত্র আদনান হারুনও গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করলে ২৩ মে আদনান হারুনকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, ‘দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আসামিদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখনও এক আসামি পলাতক, তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।’ আসামিরা আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১২টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে তলব করা হয়।

একইদিনে দ্য হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষকে তলব করা হলেও হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুণের পক্ষ থেকে আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির ও রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত হন। শুল্ক গোয়েন্দার কাছে লিখিথ আবেদনে আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রেইন ট্রি’র মালিক অসুস্থ থাকায় তলবে উপস্থিত হতে পারিনি। এজন্য শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে এক মাসের তলবের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানালে আগামী ২৩ মে রেইন ট্রির এমডিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা ‘রেইন ট্রি’ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি রেকর্ড বার্তা শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শোনান।

আমি গ্রেফতার হলে সবাইকে জেলে যেতে হবে : নিজেদের জুয়েলারি ব্যবসা ‘বৈধ’ দাবি করে বনানীর  হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের বৈধ ব্যবসা। আমাকে যদি ডার্টি মানি ও স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য গ্রেফতার করা হয়, তাহলে কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাইরে থাকবে না। সবাইকে জেলে যেতে হবে।’ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে ব্যবসা করছি, সারা বাংলাদেশে সেভাবে ব্যবসা চলছে। এরপরও যদি আমার স্বর্ণের দোকান বন্ধ করা হয় তবে সারাদেশের সকল দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’ বৈধ কাগজপত্র  দেখাতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কী আর কাগজপত্র দেখাতে পারে? গত পাঁচ বছর ধরে কোনো স্বর্ণ আমদানি নেই। একটা ব্যবসা চললে তার নীতিমালা থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কোনো নীতিমালা করতে পারিনি।’

দুই তরুণীকে পুলিশি নিরাপত্তা : ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি। তিনি এলন, তাদের নিরাপত্তায় পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যও নিয়োজিত রয়েছে। আদালত মঙ্গলবার ওই তরুণীদের নিরাপত্তা দেয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন, এই নিরাপত্তা তার অংশ কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। তা পেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে না চাইলেও পরে পুলিশ সাফাত আহমেদ ও মামলার অপর আসামি সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে। আরেক আসামি নাঈম আশরাফ এখনও পলাতক।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top