বিকাল ৫:১৩, মঙ্গলবার, ৩০শে মে, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বনানীতে ধর্ষণ ঘটনা
বনানীতে ধর্ষণ ঘটনা
মে ১৬, ২০১৭

রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের নিষ্পৃহতার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির বিষয়টি মিডিয়ায় এসেছে। গত ২৮ মার্চ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়া দুই ছাত্রীকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে তাদের দু’জনকে আলাদা আলাদা কক্ষে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও চিত্রে ধারণ করা হয়। ভিকটিমরা তাদের ভয়ভীতি দেখালে তারা পরিবারের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বনানী থানায় মামলা করতে যায়।


 মামলা গ্রহণে পুলিশ প্রথমে টালবাহানা করে এমনকি ওই ভিকটিমদের অপরাধী প্রমাণের চেষ্টা করে। তাদের চরিত্র খারাপ বলে প্রমাণের চেষ্টা করে। মেডিকেল টেস্টের নামে থানায় আটকে রাখা হয়। অপরাধীরা ধণাঢ্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় অনেকের মনেই যথেষ্ট সন্দেহ দানা বাঁধে যে, অতীতের কোন কোন অপরাধ ঘটনার মতোই এই ধর্ষণ ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে একটা পর্যায়ে মামলা হয়। এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।


 পুলিশ আসামীদের আটক করতে গড়িমসি করে। মিডিয়া সোচ্চার হয়, মিডিয়া জানায় আসামীরা সিলেটে আছে। একটা পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত সিলেটে দুই ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। এখনও তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়নি। যে কোন অপরাধের মামলায় আসামি গ্রেফতার হবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে এটাই আইনের বিধান। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে, মানুষ রাস্তায় নেমে দাবি জানিয়ে তারপর পুলিশ তৎপর হবে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি তদন্ত যেন প্রভাবিত না হয়। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ করা যাবে না।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top